ভারতের ভূমিকা নিয়ে জনগণের প্রশ্ন ও সন্দেহ আছে: তথ্য উপদেষ্টা

বাংলাদেশের অতীত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং একটি নির্দিষ্ট সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়ে দেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক এবং দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ব্রিফিং এবং সরকারের প্রকাশ্য বক্তব্যেই বাংলাদেশের অবস্থান ভারতের কাছে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নতুন বার্তা
বিজ্ঞাপন
তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ করতে ভারতের পক্ষ থেকে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি মনে করেন, দুই দেশের সম্পর্ক কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল কিংবা নির্দিষ্ট সরকারের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে জনগণকেন্দ্রিক হওয়া উচিত।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক হওয়া উচিত বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে। ভবিষ্যতে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক নতুনভাবে বিন্যাস বা ‘রিঅ্যালাইনমেন্ট’-এর প্রয়োজন রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ
ব্রিফিংয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গও উঠে আসে। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তার বক্তব্যের পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া সরকারি বিবৃতিতেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।
ভারতের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে ওই ঘটনার সঙ্গে দেশটির কোনো সম্পর্ক নেই—এমন অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন বলে জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের দৃষ্টিতে ওই ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে ভারতের কোনো না কোনো পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা কিংবা সমর্থনের প্রশ্ন রয়েছে।
অতীত ভূমিকা নিয়ে কেন প্রশ্ন
তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ভারতের ভূমিকা নিয়ে জনগণের মধ্যে থাকা সন্দেহের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তার মতে, অতীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং একটি নির্দিষ্ট সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এ কারণে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে আস্থার পরিবেশ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে, সেগুলো উপেক্ষা না করে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের কাঠামো নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তার কথা
তথ্য উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক হিসেবে দেখলে তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না। বরং দুই দেশের জনগণের স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌমত্ব এবং সমান মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আগের কাঠামোর পরিবর্তে নতুন বাস্তবতা ও জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
সচিবালয়ের প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টার এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কাঠামো এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে দুই দেশেই আলোচনা চলছে।








