Logo

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ আগস্ট, ২০২৬, ১৩:৫৯
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার
ছবি: সংগৃহীত

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আদালতের আদেশ অমান্য করে কেউ বক্তব্য প্রচার বা সম্প্রচার করলে সরকার প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের বিষয়ে সরকার এর আগেও গণমাধ্যমগুলোকে সতর্ক করেছিল। কেউ যদি আগেই প্রচার করে যে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন এবং পরে সেই বক্তব্য প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তাহলে তা আদালতের আদেশ অমান্যের শামিল হবে।

তিনি বলেন, বিষয়টি আবারও সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে। আদালতের নির্দেশনা মেনে চলা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। আর সরকারের দায়িত্ব হলো আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নিজের মতামত তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, আদালতের নির্দেশনা না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়া সমীচীন হতো না। কেউ যদি আদালতের আদেশের সঙ্গে একমত না হন, তাহলে আদালতে গিয়ে সেটি চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে। তবে আদেশ বহাল থাকা অবস্থায় সবাইকে তা মেনে চলতে হবে।

শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যে দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়। এ জন্য ভারতের কাছে তার প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়েও একই বার্তা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তিনি দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। এরপর আইনজীবী নিয়োগ, আত্মপক্ষ সমর্থনসহ আইনে নির্ধারিত সব সুযোগ তিনি পাবেন। আদালতের চূড়ান্ত রায় সরকার মেনে নেবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, অতীতেও তার বিভিন্ন আহ্বানের বাস্তব কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। এখনো কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তাকে সমর্থন করতে পারেন কিংবা অতীতে সুবিধাভোগী হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় থাকতে পারেন। তবে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে সরকারকে চ্যালেঞ্জ করার মতো নৈতিক বা সাংগঠনিক শক্তি তাদের নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনার দেশত্যাগে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ওই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল ব্যতিক্রমী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় এ ধরনের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে কারা কীভাবে ওই ঘটনায় জড়িত ছিলেন, তা নিয়ে সরকারের কোনো তদন্ত উদ্যোগ নেই।

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ বৃহস্পতিবার জামিন পেলেও সরকার দুই-তিন দিন পর বিষয়টি জানতে পারল কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন। তাই তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যাও দিতে পারছেন না।

তিনি বলেন, বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানানো হবে এবং তার সঙ্গে আলোচনা করে কেন এমন তথ্যগত ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এখনো আগের সরকারের প্রভাব রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের সবাইকে একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তার ভাষ্য, প্রশাসনসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এখনো আগের সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক মানুষ রয়েছেন। এত সংখ্যক মানুষকে একসঙ্গে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন স্তরে যারা দায়িত্বে উঠে এসেছেন, তাদের পরিবর্তে নতুনদের আনতে সময় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শুধু বদলি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। নতুন কর্মকর্তাদের দক্ষতা অর্জনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাষ্ট্রের সেবা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সরকার ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করছে।

বিজ্ঞাপন

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, পরিবর্তনের চেষ্টা শুধু চলছে না, বাস্তব কাজও হচ্ছে। তবে এমনভাবে পরিবর্তন আনা হচ্ছে না, যাতে দুর্বল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শেষ পর্যন্ত মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD