Logo

জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আগ্রহী সরকার: মন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ আগস্ট, ২০২৬, ১৮:০২
জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আগ্রহী সরকার: মন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার আগ্রহী। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

সেমিনারে মন্ত্রী বলেন, সরকার বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার কাজ করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগও গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ টার্মিনাল বা এফএসআরইউ বন্ধ হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প খাত যাতে ক্ষতির মুখে না পড়ে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে জানান তিনি। এ নিয়ে শিল্পমালিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।

তার বক্তব্যে উঠে আসে, শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের বিষয়টি অর্থনীতি ও উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে বর্তমান সংকট মোকাবিলায় শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে করণীয় নির্ধারণ করতে চায় সরকার।

জ্বালানি সংকটের বর্তমান পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে কেউ যেন অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা না করে, সে বিষয়েও সতর্ক করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের সংকটময় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে কেউ কোনো ধরনের সুবিধা অর্জন করতে পারবে না। সংকট মোকাবিলায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী একই সঙ্গে আগের সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে এমন কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যেখানে অর্থনৈতিক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়েও সরকারের সতর্ক অবস্থানের কথা জানান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে খুব সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে। কারণ এ ধরনের প্রকল্পের কারণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থায়ন, পরিবেশগত বিষয় এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনা করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা সাজানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে সৌরবিদ্যুৎকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুৎ খাতকে আরও কার্যকর ও ব্যবসাভিত্তিক করতে সরকার ইতোমধ্যে নীতিগত কাজ এগিয়ে নিয়েছে।

তিনি জানান, মাত্র দুই মাসের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে একটি নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। সেই নীতিতে যে বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অপেক্স মডেলে ঢাকাকে কেন্দ্র করে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের কাজ শুরু করা হবে। পরবর্তী সময়ে এই ব্যবস্থা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সেমিনারে মন্ত্রীর বক্তব্যে জ্বালানি খাতে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্ব উঠে আসে। গ্যাস সংকট মোকাবিলা, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনা এবং সৌরবিদ্যুতের প্রসার—সব ক্ষেত্রেই বেসরকারি বিনিয়োগকে কাজে লাগাতে চায় সরকার।

বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎকে ব্যবসায়িকভাবে কার্যকর করার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি শিল্প খাতে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্যাস সংকটের দ্রুত সমাধানও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সেমিনারে জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD