Logo

মাদকের গডফাদারদের ধরতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে: কোস্ট গার্ড

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১৫:৫৭
মাদকের গডফাদারদের ধরতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে: কোস্ট গার্ড
ছবি: সংগৃহীত

মাদক কারবার ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত সব গডফাদারকে আইনের আওতায় আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সমুদ্রে উদ্ধার তৎপরতায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারী নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমারের নৌসীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে মাদক প্রবেশ এবং চোরাচালান পুরোপুরি বন্ধে কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জিয়াউল হক বলেন, মাদক বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা। শুধু সরবরাহ বন্ধ করলেই হবে না, মাদকের চাহিদা কমানোর বিষয়েও সামাজিকভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, গত দুই বছরে কোস্ট গার্ড প্রায় দেড় কোটি ইয়াবা জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের নীতিগত অবস্থান কঠোর। মাদকের কারবার নিয়ন্ত্রণে নতুন শক্তিশালী আইন প্রণয়নের উদ্যোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মাদক চোরাচালানের মূল হোতাদের ধরার বিষয়ে কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক বলেন, যারা সরাসরি মাদক কারবার ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত, তাদের আটক করে তাদের মাধ্যমে মূল পৃষ্ঠপোষক বা গডফাদারদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তার ভাষায়, লক্ষ্য হচ্ছে মাদকের কারবারকে মূল জায়গা থেকে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং চোরাচালানের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক। তিনি বলেন, দেশে মাদকের চাহিদা যতদিন থাকবে, ততদিন শুধু আইন প্রয়োগ করে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। তাই মাদক ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে পরিবার ও সমাজকে আরও সচেতন হতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তার মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

এদিকে, মাদক চোরাচালানসহ সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা ও সমুদ্রে উদ্ধার কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়াতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

দুই সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হলে সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD