সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের আরও বেশি কাজের সুযোগ করে দিতে চাই

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে। সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তারা যাতে আরও বেশি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার সুযোগ পান, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত রাজস্ব সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব সম্মেলনকে তিনি সাধারণ কোনো আয়োজন হিসেবে দেখছেন না। কারণ, এনবিআরের কার্যক্রম কতটা সফল হচ্ছে, তার ওপর সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের অনেকটাই নির্ভর করে। তাই এ সম্মেলনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজের দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে বলে আশা করেন তিনি।
বক্তব্যে দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলে এনবিআরও নানা ধরনের প্রভাব ও সমস্যার মধ্যে ছিল বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থে কাউকে সুবিধা দেওয়া, কারও প্রতি বৈরী মনোভাব এবং রাজস্ব আদায়ে স্বেচ্ছাচারিতার কারণে এনবিআর প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন বাংলাদেশকে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে। জনগণ এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য ও আস্থাশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায়। বিশেষ করে করদাতারা চান, প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিশ্বাসের জায়গা হয়ে উঠুক। দক্ষ ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই সেই আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
বিজ্ঞাপন
এনবিআরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, করদাতাদের প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব কর্মকর্তাদেরই নিতে হবে। বর্তমান সরকার এনবিআরসহ পুরো রাজস্ব ব্যবস্থাকে জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর অতিরিক্ত ঋণের বোঝা চাপিয়ে শুধু বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে দেশ পরিচালনার নীতিতে সরকার বিশ্বাসী নয়। তাই অভ্যন্তরীণভাবে রাজস্বের নতুন ক্ষেত্র ও উৎস তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, আয়ের নতুন ক্ষেত্র ও উৎস বাড়াতে সরকার গণমুখী উৎপাদন নীতি গ্রহণ করেছে। এর ফলে দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নের প্রসার এবং মানুষের আয় বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং জনগণ আরও উন্নত সরকারি সেবা পাবে। এসব ক্ষেত্রে এনবিআরের দক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।








