মাসিক বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে দেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তার মাসিক মূল বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছেন বলে সরকারের প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর মাসিক মূল বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এর ১০ শতাংশ হিসেবে প্রতি মাসে ১১ হাজার ৫০০ টাকা তিনি সরকারি কোষাগারে ফেরত দিচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। ১৭ আগস্ট সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শিরোনামে ই-বুকটি প্রকাশ করা হয়।
ই-বুকে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের বিভিন্ন কার্যক্রম, নীতি ও উদ্যোগ তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশ আমদানিনির্ভর ও ঋণনির্ভর অর্থনীতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এসব ক্ষেত্রে পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তবে প্রথম ১৮০ দিনেই প্রতিটি ক্ষেত্রে শতভাগ সাফল্য অর্জনের দাবি সরকার করেনি বলেও ই-বুকে উল্লেখ করা হয়েছে। বরং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, কৃষির পুনরুজ্জীবন, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সরকারের দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ন্যায়, জবাবদিহি, মানবিক মূল্যবোধ ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তিতে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে ধৈর্য, সহনশীলতা ও রাজনৈতিক সৌজন্যের চর্চার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
সরকারি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ছবি বন্ধ
সরকারি ও বেসরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তের বিষয়টিও ই-বুকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সরকার বলছে, এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারের পরিবর্তে রাষ্ট্রের কাজ ও জনস্বার্থকে সামনে আনার দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। একই সঙ্গে সরকারি অফিস, আদালত, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অপ্রয়োজনে রাজনৈতিক নেতাদের ছবি টাঙানোর সংস্কৃতি বন্ধের কথাও বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং গাড়িবহরে অতিরিক্ত প্রটোকল না রাখার বিষয়টিও সরকারের নতুন চর্চার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগ
বিজ্ঞাপন
সরকারি ব্যয় কমাতে ভোজ, আপ্যায়ন, বিদেশ সফরের প্রতিনিধিদলসহ বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ে কাটছাঁটের কথা বলা হয়েছে। দেশীয় পণ্য ব্যবহারে অগ্রাধিকার, প্রশাসনে অপচয় রোধ এবং দীর্ঘ কর্মঘণ্টার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া দলীয় সংসদ সদস্যদের বাড়ি ও গাড়ির সুবিধা না নেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথাও ই-বুকে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিরোধী দলের প্রতি সৌজন্যমূলক আচরণ, সহনশীলতা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের সংস্কৃতি নিরুৎসাহিত করার বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তায় বিভিন্ন কর্মসূচি
বিজ্ঞাপন
সরকারের প্রথম ছয় মাসে বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, প্রবাসী কর্মীদের শ্রমিক ঋণ ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ঋণ।
এ ছাড়া কৃষিঋণ মওকুফ, ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য ভাতা, ‘ওয়ান স্টপ ওয়ান সার্ভিস’, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’, খুদে বৈজ্ঞানিক প্রকল্প এবং ‘নজরুলবর্ষ’সহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা ই-বুকে তুলে ধরা হয়েছে।
সরকারের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব উদ্যোগকে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যয়সংকোচন, ব্যক্তিবন্দনার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিকতা এবং জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।








