Logo

মূল সড়কে নয়, নীতিমালা মেনে হকার পুনর্বাসন করা হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১৯:১৫
মূল সড়কে নয়, নীতিমালা মেনে হকার পুনর্বাসন করা হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক রেখে নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী হকারদের পুনর্বাসন করা হবে। তবে কোনোভাবেই মূল সড়কে হকার বসতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

বিজ্ঞাপন

হকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে সোমবার নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা শহরে নাগরিকদের চলাচল ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হলে হকার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি। হকারদের জীবিকা বন্ধ করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষকে হকার হিসেবে ঢাকায় এনে পুনর্বাসন করাও সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুসরণ করেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে যেতে হবে। নির্ধারিত ফি দিয়ে হকারদের নিবন্ধন, নিয়মিত নবায়ন এবং নির্দিষ্ট স্থান ও সময়ে ব্যবসা পরিচালনার নিয়ম মানতে হবে।

আবদুস সালাম আরও বলেন, মূল সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না। যেসব সড়কে প্রশস্ত ফুটপাত রয়েছে, সেখানে পথচারীদের চলাচলের প্রয়োজনীয় জায়গা উন্মুক্ত রেখে নির্দিষ্ট সংখ্যক নিবন্ধিত হকারকে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যদের জন্য হলিডে মার্কেট ও নৈশকালীন মার্কেট চালুর ব্যবস্থা করা হবে।

নিবন্ধন ও ফি

বিজ্ঞাপন

রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন, পথচারীবান্ধব ও যানজটমুক্ত রাখতে স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’ প্রকাশ করেছে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ১২০(২) ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে ডিএসসিসি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় এ নীতিমালা কার্যকর করা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী হকারদের জন্য নির্ধারিত ফি হলো—

এককালীন নিবন্ধন ফি: ৫ হাজার টাকা, বার্ষিক নবায়ন ফি: ২ হাজার ৫০০ টাকা, স্থান ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ফি: মাসে ৩ হাজার টাকা।

বিজ্ঞাপন

আবেদনকারীকে কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সী ও বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। নিবন্ধিত হকারদের ব্যবসার স্থান ও সময় উল্লেখ করে বারকোড বা কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।

হলিডে ও নৈশকালীন মার্কেট

নীতিমালা অনুযায়ী শুক্রবার, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিনে সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত স্থানে হলিডে মার্কেট পরিচালনা করা যাবে। অন্যদিকে বাণিজ্যিক এলাকায় অফিস সময় শেষে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নৈশকালীন মার্কেট চালুর সুযোগ থাকবে। তবে মাঠ, উপাসনালয় ও কবরস্থানে কোনো ধরনের মার্কেট বসানো যাবে না।

বিজ্ঞাপন

নারী ও প্রতিবন্ধী হকারদের অগ্রাধিকার

স্থান বরাদ্দের ক্ষেত্রে নারী ও প্রতিবন্ধী হকারদের জন্য ৩০ শতাংশ জায়গা সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ফুটপাথে কমপক্ষে ১ দশমিক ৫ মিটার বা প্রায় ৫ ফুট জায়গা খালি রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ফুটপাথে কোনো স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা যাবে না। হকারদের নিজেদের ব্যবসাস্থল পরিষ্কার রাখতে হবে এবং নির্ধারিত বিনে বর্জ্য ফেলতে হবে।

বিজ্ঞাপন

লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা কিংবা নির্ধারিত সীমানা অতিক্রম করে ব্যবসা করলে উচ্ছেদের পাশাপাশি নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতবিনিময় সভায় ডিএসসিসি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন হকার সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD