প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন হাসনাত, দিলেন সমাধান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানের ছয় মাসের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। একই সঙ্গে সংকট মোকাবিলায় কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরে দ্রুত তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণের কথা জানান।
এর আগে বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জ্বালানি সংকট সমাধানের পরিকল্পনা চেয়ে ছয় মাসের সময়সীমা বেঁধে দেন। কোনো দলের প্রস্তাব ছয় মাসের মধ্যে সংকট সমাধানে কার্যকর প্রমাণিত হলে তা বাস্তবায়নের কথাও জানান তিনি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ তারা গ্রহণ করেছেন। তার দাবি, সংকট সমাধানের প্রস্তাব ইতোমধ্যে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, নাহিদ ইসলাম স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় মোট ১৫ দফা সমাধান প্রস্তাব করেছেন। এর মধ্যে ৩০ দিনের জন্য পাঁচটি, ৬ থেকে ১৮ মাসের জন্য ছয়টি এবং দীর্ঘমেয়াদে চারটি প্রস্তাব রয়েছে। ভর্তুকি নীতি, জ্বালানি পরিকল্পনা, জরুরি পরিস্থিতির পরিকল্পনা ও দুর্যোগ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়েও বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হাসনাতের অভিযোগ, নাগরিক সমাজ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিভিন্ন মতামত এসেছে। এসব প্রস্তাব নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা ও বিভিন্ন সেমিনারে মতবিনিময় হলেও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচিত হয়নি।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী মিলিয়ে সরকারের বড় একটি টিম থাকার পরও বিরোধী দলের প্রস্তাব ও নাগরিক মতামত কেন যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
বিজ্ঞাপন
বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ তুলে হাসনাত বলেন, ছয় মাসে ব্যাপক দলীয় পদায়নের কারণে প্রশাসনের প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার দাবি, এ কারণে জ্বালানি সরবরাহ, জরুরি পরিস্থিতি ও দুর্যোগ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
মহেশখালীর এফএসআরইউতে আগুন লাগার ঘটনাটিও তুলে ধরে তিনি বলেন, এর রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি নাশকতা নাকি অবহেলার কারণে ঘটেছে, সরকার তা স্পষ্ট করেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫ বাস্তবায়নের ওপরও জোর দেন হাসনাত। তার ভাষ্য, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকরা সরাসরি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন। এতে সরকারের কোষাগার থেকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না বলে দাবি করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
হাসনাত বলেন, এই নীতির আওতায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় চুক্তি ও হুইলিং চার্জ নির্ধারণ করা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বিষয়। তাই এটি বাস্তবায়নে অযথা দীর্ঘ সময় লাগার কথা নয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারকে দেওয়া ছয় মাসের সময়সীমা তারা মেনে নিয়েছেন। তবে এই সময়ের মধ্যে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের। ছয় মাসের বেশি সময় লাগলে সেটি নীতিগত সীমাবদ্ধতা নয়, বরং সরকারের সক্ষমতার ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
হাসনাত আরও বলেন, একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে চ্যালেঞ্জ না দিয়ে সরকারের কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করবেন। তার মতে, ছয় মাস ক্ষমতায় থাকার পরও দেশে কেন এত বেশি লোডশেডিং হচ্ছে, সেটিই সরকারের কাছে জনগণের প্রধান প্রশ্ন হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের সমাধানের প্রস্তাব বিরোধী দলের হাতে রয়েছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সরকারের হাতে। ছয় মাস পর জনগণই জানতে চাইবে—সমাধানের অভাবে নাকি সরকারের সক্ষমতার ঘাটতির কারণে দেশ অন্ধকারে ছিল।








