Logo

মহাসড়কে ট্রাফিক আইন ভাঙলেই হবে অটো ফাইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১৪:৫৪
মহাসড়কে ট্রাফিক আইন ভাঙলেই হবে অটো ফাইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা করার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ ব্যবহার করে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, উল্টো পথে চলাচল, নিষিদ্ধ স্থানে ওভারটেকিংসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন ভঙ্গ শনাক্ত করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট গাড়ির বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা আরোপ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনাঘাটে হাইওয়ে পুলিশ কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল মনিটরিং সেন্টারে এআই ক্যামেরাভিত্তিক ‘অটো ফাইন সিস্টেমের’ উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে হাইওয়ে পুলিশ প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৪২৭টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

এই ক্যামেরাগুলো সার্বক্ষণিকভাবে যানবাহনের চলাচল পর্যবেক্ষণ করবে। কোনো যানবাহন নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করলে কিংবা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে প্রযুক্তির মাধ্যমে তা শনাক্ত করা হবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নতুন ব্যবস্থায় মহাসড়কে বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে— নির্ধারিত গতিসীমার বেশি গতিতে গাড়ি চালানো, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, নিষিদ্ধ স্থানে ওভারটেকিং, ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিং এবং অন্যান্য শনাক্তযোগ্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন।

এআই ক্যামেরায় কোনো অপরাধ শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির তথ্যের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা আরোপের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জরিমানা আরোপের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ডাটাবেজে পাঠানো হবে। এরপর গাড়িটির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জরিমানার তথ্য জানানো হবে।

বিজ্ঞাপন

গাড়ির মালিক অনলাইন বা মোবাইলের মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। ফলে আইন ভঙ্গের পর ঘটনাস্থলে পুলিশ কর্মকর্তার হাতে নগদ অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

এতে জরিমানা আদায়ের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ার পাশাপাশি আইন প্রয়োগে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

একই গাড়ি বা মালিক বারবার ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুনঃপুন আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বিআরটিএর বিদ্যমান আইন অনুযায়ী গাড়ির নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

বিজ্ঞাপন

এর ফলে শুধু একবার জরিমানা দেওয়ার মধ্যে বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকবে না; নিয়মিত আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

নতুন এআইভিত্তিক ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য মহাসড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমানো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে আইন লঙ্ঘন শনাক্ত ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে চালকদের মধ্যে আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে।

নতুন ব্যবস্থার বিষয়ে সাধারণ মানুষ ও চালকদের সচেতন করতে হাইওয়ে পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

সংশ্লিষ্টদের আশা, সরাসরি পুলিশের নজরদারির পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরাভিত্তিক আইন প্রয়োগ চালু হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং ও উল্টো পথে চলাচলের মতো প্রবণতা কমবে।

বিজ্ঞাপন

হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালু হওয়া এই এআইভিত্তিক অটো ফাইন ব্যবস্থা দেশের মহাসড়ক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর আইন প্রয়োগের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করল। এখন থেকে চালকদের জন্য নির্ধারিত গতিসীমা ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD