Logo

রাজনৈতিক টানাপোড়েনেও বাংলাদেশ-ভারত অর্থনীতি এগোবে: দীনেশ ত্রিবেদী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১৬:৪৫
রাজনৈতিক টানাপোড়েনেও বাংলাদেশ-ভারত অর্থনীতি এগোবে: দীনেশ ত্রিবেদী
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। পারস্পরিক নির্ভরশীলতাকে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে চায় ভারত।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘ইন্টার-ডিপেনডেন্সি স্থায়ী সমাধান। এটা আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকবে, কিন্তু অর্থনীতি এগিয়ে যাবে। অর্থনীতি যখন আগে চলে যায়, তখন রাজনীতি তার পেছনে পেছনে যায়।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, রাজনীতি ও অর্থনীতি—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। তবে দুই দেশের সাধারণ মানুষের প্রধান প্রত্যাশা শান্তি ও সমৃদ্ধি। জনগণের জন্য এই দুটো বিষয় নিশ্চিত করার দায়িত্ব বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ের।

বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ই স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র উল্লেখ করে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় বা ছোট রাষ্ট্রের কোনো প্রশ্ন নেই। উভয় দেশ নিজেদের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে সম্পর্ক এগিয়ে নেবে। আগামী দিনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও উন্নত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

দুই দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, ভারতের কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ (সিআইআই) থেকে সম্প্রতি একটি বড় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছে। সফরকালে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও তাদের বৈঠক হয়েছে।

দীনেশ ত্রিবেদীর মতে, দুই দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। কারণ সাধারণ মানুষ কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত সড়ক ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক সুবিধা চায়। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি নিশ্চিত করতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ‘বিজনেস টু বিজনেস’ যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি।

এ জন্য দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক বিষয় থাকবেই উল্লেখ করে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, এর পাশাপাশি মানুষের জীবনমান ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাও জরুরি। দুই দেশের তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের প্রধান শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তাদের দক্ষতা, জ্ঞান ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালী হলে উভয় দেশের ভোক্তারা প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য ও সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

যৌথভাবে উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাবনাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। অন্যদিকে ভারত জিপার, যন্ত্রপাতি ও পোশাক উৎপাদনের বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ করতে পারে। দুই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথ উদ্যোগে উৎপাদনে গেলে ‘ইন্দো-বাংলা’ বা বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগের পণ্য তৈরি করা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে রপ্তানি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব পোশাকে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা দেখলে তিনি গর্বিত বোধ করেন। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, রাজনৈতিক সম্পর্ক নিজস্ব গতিতে এগোবে, আর ব্যবসা-বাণিজ্য মানুষের প্রয়োজন পূরণে ভূমিকা রাখবে। দুই দেশের জনগণের স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

বাংলাদেশ ও ভারত উভয়কেই প্রাণবন্ত, স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে উল্লেখ করে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, কোনো দেশই বড় বা ছোট নয়। দুই দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD