Logo

নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবর রচনা করেছি: সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১৭:৪১
নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবর রচনা করেছি: সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ নতজানু পররাষ্ট্রনীতির অবসান ঘটিয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো দেশের কাছে বাংলাদেশ মাথানত করবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার বীর বিক্রম মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এবং এতে দেশের কী ধরনের লাভ হতে পারে, তা জানতে চান।

জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তাঁর ভাষায়, এটি মুসলিম বিশ্বের আত্মরক্ষার একটি ব্যবস্থা। তবে বাংলাদেশকে এ চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সদস্য দেশগুলোর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।

বিজ্ঞাপন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান সম্প্রতি একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রায় এক বছর আলোচনার পর গত ৭ আগস্ট সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

বিজ্ঞাপন

মক্কার মতো মুসলমানদের পবিত্র একটি শহরে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্বের পাশাপাশি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও আলোচনা চলছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, হঠাৎ করে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে পৌঁছায়নি। ২০২৩ সালে গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধের পর এ ধরনের নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়। পরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তান পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। এরই ধারাবাহিকতায় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চুক্তিকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে দেশের ভেতরে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন মত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাহাব এনাম খান মনে করেন, বাংলাদেশ এই প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হলে সামরিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD