কপ-১৭ সম্মেলনের সাইডলাইনে পরিবেশমন্ত্রীর ৪টি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

জাতিসংঘের মরুকরণ মোকাবিলা কনভেনশনের (ইউএনসিসিডি) ১৭তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (কপ-১৭)-এর সাইডলাইনে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটরে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা, ভূমি অবক্ষয় ও খরা মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা হয়।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৯ আগস্ট) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেনের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকগুলোতে পরিবেশ ও জলবায়ু ইস্যুর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বাণিজ্য, শ্রম অভিবাসন এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ও উঠে আসে।
পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূমি অবক্ষয়ের মতো সীমান্ত অতিক্রমকারী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বাড়ানো প্রয়োজন। বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা অন্য অংশীদারদের সঙ্গে বিনিময়ের পাশাপাশি তাদের সফল উদ্যোগ থেকেও শেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী আশা করেন, কপ-১৭-এর সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত আলোচনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব নতুন মাত্রা পাবে।
ভারতের সঙ্গে জলবায়ু সহযোগিতা
ভারতের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী ভূপেনদার যাদবের সঙ্গে ২৪ আগস্ট বৈঠক করেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। এতে বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
বৈঠকে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, পানি সম্পদের কার্যকর ব্যবহার, খরা ঝুঁকি মোকাবিলা এবং বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরীয় উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণেও সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
এ ছাড়া রিমোট সেন্সিং ও জিআইএস প্রযুক্তির ব্যবহার, কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। সৌরবিদ্যুৎ, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ এবং ভূমি-সাশ্রয়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তিও আলোচনার অংশ ছিল।
মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান
বিজ্ঞাপন
মঙ্গোলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এইচ.ই বাতসেতসেগ বাতমুনখেরের সঙ্গে ২৫ আগস্ট বৈঠক করেন পরিবেশমন্ত্রী। এতে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি উভয় দেশে দূতাবাস স্থাপনের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদারের বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
পরিবেশ ও জলবায়ু ইস্যুর পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে। বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ওষুধ এবং তৈরি পোশাক রপ্তানির সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মঙ্গোলিয়ার শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় নির্মাণ, কৃষি ও সেবাসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মীদের বৈধ ও নিরাপদ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়। সরকার-টু-সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ, দক্ষতার স্বীকৃতি এবং অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
আইওএমের সঙ্গে জলবায়ুজনিত অভিবাসন
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) উগোচি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে ২৬ আগস্ট বৈঠক করেন আবদুল আউয়াল মিন্টু।
এ আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিবাসনের পারস্পরিক সম্পর্ক, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়ানো এবং নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করার বিষয় উঠে আসে।
বিজ্ঞাপন

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানুষের স্থানান্তরজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের উদ্যোগ
মঙ্গোলিয়ার পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী এইচ.ই সানদেগ উচির সেংদের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রণয়নের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ।
বিজ্ঞাপন
সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে ভূমি পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু অভিযোজন, টেকসই প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সক্ষমতা উন্নয়নের বিষয় চিহ্নিত করা হয়।
মঙ্গোলিয়ার চারণভূমি ব্যবস্থাপনা, মরুকরণ নিয়ন্ত্রণ এবং খরা মোকাবিলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জলাভূমি, উপকূলীয় এলাকা এবং কমিউনিটিভিত্তিক বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অভিজ্ঞতা মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আগ্রহ জানানো হয়।
প্রযুক্তিগত সহযোগিতার অংশ হিসেবে জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, খরা পূর্বসতর্কীকরণ ব্যবস্থা, বিশেষজ্ঞ বিনিময়, প্রশিক্ষণ, যৌথ গবেষণা এবং পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।








