নতুন পে-স্কেলে প্রধান শিক্ষক-সহকারীদের বেতন কত বাড়ছে?

নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ১০ম গ্রেডের প্রধান শিক্ষকদের চাকরির শুরুতে মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৩২ হাজার টাকা এবং ১৩তম গ্রেডের সহকারী শিক্ষকদের ১১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২৪ হাজার টাকা হবে।
বিজ্ঞাপন
নতুন বেতনকাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন নির্ধারিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আরও ২৫ শতাংশ এবং একই বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ কার্যকর করার কথা রয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী সব ধরনের ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
প্রধান শিক্ষকদের বেতন কত হবে
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা বর্তমানে ১০ম গ্রেডে বেতন পান। নতুন কাঠামোয় এ গ্রেডের চাকরির শুরুতে মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ হাজার টাকা। নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
তিন ধাপে নতুন বেতন কার্যকর হলে ১০ম গ্রেডের শুরুতে মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা থেকে প্রথম ধাপে ২৪ হাজার, দ্বিতীয় ধাপে ২৮ হাজার এবং শেষ ধাপে ৩২ হাজার টাকায় পৌঁছাবে।
বিজ্ঞাপন
এর সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষাসহায়ক ও অন্যান্য ভাতা যুক্ত হবে। ফলে পুরো কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর একজন প্রধান শিক্ষকের মোট মাসিক বেতন-ভাতা ৫০ হাজার টাকার বেশি হতে পারে।
বর্তমান নিয়োগব্যবস্থা অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে ৮০ শতাংশ নিয়োগ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে এবং বাকি ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে হয়ে থাকে।
সহকারী শিক্ষকদের মূল বেতন
বিজ্ঞাপন
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে নিয়োগ পান। নতুন বেতনকাঠামোয় তাদের চাকরির শুরুতে মূল বেতন ১১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৪ হাজার টাকা করা হয়েছে। ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে এই গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৫৮ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রথম পর্যায়ে ১৩তম গ্রেডের শুরুতে মূল বেতন হবে ১৭ হাজার ৫০০ টাকা। পরবর্তী দুই ধাপ শেষ হলে তা ২৪ হাজার টাকায় উন্নীত হবে।
এর সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা যুক্ত হলে নতুন কাঠামোয় একজন সহকারী শিক্ষকের মোট মাসিক বেতন প্রায় ৪০ হাজার টাকার কাছাকাছি হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
অন্যান্য গ্রেডেও বড় পরিবর্তন
নতুন বেতনকাঠামোয় নবম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের চাকরিজীবীদের মূল বেতনও বাড়ানো হচ্ছে। নবম গ্রেডে চাকরির শুরুতে মূল বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিন ধাপে এই বেতন কার্যকর হওয়ার পর ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে ঢাকায় কর্মরত নবম গ্রেডের একজন নতুন কর্মকর্তার ৪৪ হাজার টাকা মূল বেতনের সঙ্গে ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা যুক্ত হবে। সব মিলিয়ে তার মোট মাসিক বেতন প্রায় ৭০ হাজার টাকা হতে পারে।
অন্যদিকে, সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে চাকরির শুরুতে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তবে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হওয়ার পর পুরোনো চাকরিজীবীদের সবার বেতন একই হারে হবে না। তাদের নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে বর্তমান মূল বেতন, চাকরির মেয়াদ, অর্জিত ইনক্রিমেন্ট এবং অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া হবে।
নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে বর্তমানে চালু থাকা ১৫ শতাংশ ‘বিশেষ সুবিধা’ বাতিল হওয়ার কথাও রয়েছে। ফলে নতুন কাঠামোয় কার বেতন কত হবে, তা নির্ধারণে শুধু গ্রেড নয়, সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীর বর্তমান বেতন ও চাকরির অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হবে।








