বিমানবন্দরের অগ্নি নিরাপত্তায় বিশেষ প্রশিক্ষণ

দেশের বিমানবন্দরগুলোতে অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিমান দুর্ঘটনা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষতা বাড়াতে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ১৫ জন অগ্নিনির্বাপণ কর্মীর ৬০ দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সিভিল এভিয়েশন একাডেমিতে প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে সফল প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
গত ১০ জুন শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ কোর্সটি ১ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। বিমান চলাচল খাতে অগ্নিনির্বাপণ বিষয়ে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিমান দুর্ঘটনা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষ জনবল তৈরি করা।
কোর্সে বেবিচকের অগ্নিনির্বাপণ বিভাগে কর্মরত ১৫ জন কর্মী অংশ নেন। প্রশিক্ষণ চলাকালে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নিনির্বাপণ মহড়ায় অংশ নেন। পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ গাড়ি পরিচালনা এবং অগ্নিনির্বাপণের বিভিন্ন কৌশল ও কার্যক্রম বিষয়ে নিবিড় তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার মানদণ্ড অনুসরণ করে বিমানবন্দরের অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিমান দুর্ঘটনাজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবেন।
বিজ্ঞাপন
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিভিল এভিয়েশন একাডেমির পরিচালক প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী বলেন, বিমান চলাচলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনা মোকাবিলায় এই প্রশিক্ষণের গুরুত্ব রয়েছে। তবে প্রশিক্ষণের প্রকৃত সাফল্য তখনই নিশ্চিত হবে, যখন দেশের সব বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় অগ্নি সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেবিচকের পরিচালক (ফায়ার) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী বিমানবন্দর পরিচালনা এবং বিমানবন্দর জরুরি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপপরিচালক (এটিএম) মো. মজিবুর রহমান মিয়াজী এবং উপপরিচালক (ডিজাইন স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড এজিএ) মো. আবদুল লতিফ।
বিজ্ঞাপন
বেবিচক জানায়, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার বৈশ্বিক বিমান চলাচল জরুরি পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বিমানবন্দরগুলোর অগ্নি নিরাপত্তা জোরদারে চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণে অর্জিত তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ড, বিমান দুর্ঘটনা এবং বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সক্ষমতা আরও বাড়াতে সহায়ক হবে।








