Logo

শাহজালাল বিমানবন্দরে বিস্ফোরক ও মাদক শনাক্তে বাড়ল সক্ষমতা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৩:৩১
শাহজালাল বিমানবন্দরে বিস্ফোরক ও মাদক শনাক্তে বাড়ল সক্ষমতা
ছবি প্রতিনিধি।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক, কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আধুনিক নিউটেক টিআর২০০০ডিসি মডেলের নতুন ২৫টি এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর (ইটিডি) সংযোজন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নতুন এই প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক)-এর নির্বাচিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে যন্ত্রটির মূল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের (ওইএম) বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর (ইটিডি) পরিচালনা বিষয়ক স্থানীয় প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশিক্ষণে মোট ৪৪ জন এভসেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের যন্ত্রটির সঠিক পরিচালনা, নমুনা সংগ্রহ, শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া, ফলাফল বিশ্লেষণ এবং অপারেশনাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা দেওয়া হয়।

নতুন এই প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক)-এর নির্বাচিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে যন্ত্রটির মূল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের (ওইএম) বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর (ইটিডি) পরিচালনা বিষয়ক স্থানীয় প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশিক্ষণে মোট ৪৪ জন এভসেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের যন্ত্রটির সঠিক পরিচালনা, নমুনা সংগ্রহ, শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া, ফলাফল বিশ্লেষণ এবং অপারেশনাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা প্রদান করা হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নিউটেক টিআর২০০০ডিসি একটি আধুনিক ট্রেস ডিটেকশন প্রযুক্তি, যা অতি সামান্য পরিমাণে অবশিষ্ট থাকা বিস্ফোরক ও অবৈধ মাদকজাতীয় পদার্থ শনাক্ত করতে সক্ষম। যন্ত্রটি আয়ন মোবিলিটি স্পেকট্রোমেট্রি (আইএমএস) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং এতে অ-তেজস্ক্রিয় আয়নীকরণ উৎস ব্যবহৃত হয়। ফলে যাত্রীদের ব্যাগেজ, কার্গো এবং বিভিন্ন পৃষ্ঠে থাকা অতি ক্ষুদ্র মাত্রার সন্দেহজনক পদার্থ দ্রুত শনাক্তকরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

বিজ্ঞাপন

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই প্রযুক্তির সংযোজনের ফলে বিস্ফোরক ও মাদক শনাক্তকরণের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা তল্লাশির কার্যকারিতা উন্নয়ন এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি দ্রুত চিহ্নিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে। একই সঙ্গে এটি প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবে কাজ করে বিমানবন্দরের বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জামের সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত জনবলের যথাযথ প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, ব্যবহারিক অনুশীলন এবং দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা ইটিডির সক্ষমতা যথাযথভাবে কাজে লাগানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা তল্লাশির ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদ্ধতি ও মানদণ্ড অনুসরণ করতে সক্ষম হবেন।

এ ছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আধুনিক ইটিডি প্রযুক্তির সংযোজন এবং সংশ্লিষ্ট এভসেক জনবলের দক্ষতা উন্নয়ন নভেম্বর ২০২৬-এ অনুষ্ঠিতব্য ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের অডিটের প্রেক্ষাপটে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সক্ষমতা ও প্রস্তুতিকে আরও সুদৃঢ় করবে। আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং কার্যকর নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

বিজ্ঞাপন

এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই শক্তিশালী করবে না; বরং সম্মানিত যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে এবং বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থার প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশের সামগ্রিক বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের নিরাপত্তা সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পর শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম; ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেট; এবং কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও সংশ্লিষ্ট জনবলের জন্য একই ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে আধুনিক বিস্ফোরক ও মাদক শনাক্তকরণ প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী বিমানবন্দর নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও বেগবান হবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপদ বিমান চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD