Logo

বিমানে মিলল ২৫ কোটি টাকার সোনা, অধরা রহস্যময় পাচারচক্র

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:৪৩
বিমানে মিলল ২৫ কোটি টাকার সোনা, অধরা রহস্যময় পাচারচক্র
ছবি: সংগৃহীত

দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজে তল্লাশি চালিয়ে ১২০টি সোনার বার উদ্ধার করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার হওয়া সোনার মোট ওজন ১৩ কেজি ৯২০ গ্রাম। কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, এসব সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৫ আগস্ট) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানের সহকারী কারিগরি সহকারী মো. সোয়েব গাজীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দুবাই-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সোনা পাচারের তথ্য পায় কাস্টমস হাউস, ঢাকা।

বিজ্ঞাপন

তথ্য পাওয়ার পর কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তা ও প্রতিরোধ দলের সদস্যরা দ্রুত উড়োজাহাজটিতে বিশেষ তল্লাশি চালাতে যান। তখন বিমানটি পরিষ্কার করার কাজে নিয়োজিত বাংলাদেশ বিমানের যান্ত্রিক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের একটি দল ভেতরে কাজ করছিল।

কর্মীরা বিমান থেকে বের হওয়ার সময় নিরাপত্তাকর্মী নুর ইসলামের সহযোগিতায় তাদের তল্লাশি করা হয়।

বেল্টের ভেতরে মিলল সোনার বার

বিজ্ঞাপন

তল্লাশির একপর্যায়ে সহকারী কারিগরি সহকারী মো. সোয়েব গাজীর পরনে থাকা বেল্টের ভেতরে অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পান কর্মকর্তারা। বিশেষ কৌশলে কালো আঠালো ফিতায় মোড়ানো অবস্থায় কয়েকটি বস্তু সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

পরে সেগুলো উদ্ধার করে কাস্টমস হাউসে নেওয়া হয়। বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উদ্ধার করা সামগ্রীর তালিকা তৈরির সময় কালো আঠালো ফিতায় মোড়ানো মোট ১২০টি সোনার বার পাওয়া যায়।

প্রতিটি বারের ওজন ১১৬ গ্রাম। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া সোনার ওজন দাঁড়ায় ১৩ কেজি ৯২০ গ্রাম।

বিজ্ঞাপন

শুল্ক ফাঁকির আশঙ্কা

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া সোনার বাজারমূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা। সরকারি নির্ধারিত শুল্ক ও কর পরিশোধ না করে এসব সোনা দেশে আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বলয় পেরিয়ে সোনার বারগুলো বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে তল্লাশির সময় চালানটি শনাক্ত হওয়ায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

বিজ্ঞাপন

অভিযানের সময় বিমানবন্দর নিরাপত্তা বিভাগ, কাস্টমস গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কাস্টমস হাউস, ঢাকা ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বিত তৎপরতায় চালানটি জব্দ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া

উদ্ধার হওয়া সোনার মূল্য বেশি হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো বিমানবন্দরের কাস্টমসের মূল্যবান পণ্য সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছে। চোরাচালানের ঘটনায় আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্য নিষ্পত্তির স্থায়ী আদেশ অনুসারে মূল্যবান ধাতু হিসেবে জব্দ করা সোনার বারগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, সোনার চালানটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, উড়োজাহাজের ভেতরে কীভাবে বারগুলো নেওয়া হলো এবং বিমানবন্দরের বাইরে এগুলো সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনায় কারা ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD