Logo

শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার বিরুদ্ধে নতুন মামলা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২০:২১
শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার বিরুদ্ধে নতুন মামলা
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাস্টের নামে বিভিন্ন ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ ও আত্মসাতের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার বিরুদ্ধে নতুন মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই মামলায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারকেও আসামি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন। দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে দুদক অভিযোগ করেছে, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে দেশের ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর অনুকূলে সংগ্রহ করেন। এতে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে সংস্থাটির দাবি।

এজাহার অনুযায়ী, ‘দ্য ট্রাস্টস অ্যাক্ট, ১৮৮২’-এর আওতায় শেখ হাসিনা ট্রাস্টটির সভাপতি এবং শেখ রেহানা সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

দুদকের অনুসন্ধানে ৪১টি তফসিলি ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্য ও নথি পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে এজাহারে জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, তৎকালীন বিএবি সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার সংগঠনের নির্বাহী কমিটির সভায় আলোচ্যসূচিতে না থাকা সত্ত্বেও ‘বিবিধ’ প্রসঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ট্রাস্টে অর্থ দেওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করেন।

বিজ্ঞাপন

পরে নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ ট্রাস্টের অনুকূলে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয় বলে দুদকের অভিযোগ।

দুদক বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘পলিসি গাইডলাইন অন করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ফর ব্যাংকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস’-এ সিএসআর তহবিল ব্যবহারের বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তবে ওই নীতিমালায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টে এ ধরনের অর্থ অনুদান দেওয়ার কোনো বিধান নেই বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের সরেজমিন পরিদর্শনের তথ্যও মামলার নথিতে তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য, ট্রাস্টের ঠিকানা পরিদর্শন করে সেখানে কোনো দাপ্তরিক কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি ট্রাস্টটি সমাজসেবা অধিদপ্তর কিংবা এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান নয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া ট্রাস্টের ঘোষিত কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রমাণও অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দুদক। সংস্থাটির অভিযোগ, শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ব্যক্তিগত লাভের অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন এবং বিএবির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহারে মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধেও পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের দাবি, বিএবির সভাপতি থাকাকালে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রভাব কাজে লাগিয়ে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টে অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখেন।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টে অনুদান দেওয়ার বিধান না থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এরই মধ্যে রাজউকের আবাসন প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির মাধ্যমে শেখ হাসিনা এবং পরিবারের সদস্যদের ১০ কাঠা করে মোট ৬০ কাঠা জমির প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ২৩ জনের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করেছে সংস্থাটি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD