ঠিকানায় গিয়েও সন্ধান মেলেনি হাসিনা-বেনজীর-আজিজসহ ৩০ জনের

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পরোয়ানাভুক্ত ৩০ আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তি।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এসব পলাতক আসামিকে হাজির করতে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যরা।
শুনানিতে প্রসিকিউশন জানায়, মামলায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালালেও কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাদের বিষয়ে নন এক্সিকিউশন রিপোর্ট (এনইআর) দাখিল করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
পলাতক আসামিদের আদালতে হাজির করার উদ্দেশ্যে জাতীয় পর্যায়ের দুটি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য সময় চান প্রসিকিউটর। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর।
বিজ্ঞাপন
কারাগার থেকে হাজির ১০ আসামি
এদিন সকালে মামলায় গ্রেপ্তার ১০ আসামিকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির এবং ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু।
তবে অসুস্থতার কারণে সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
যাদের সন্ধান মেলেনি
শেখ হাসিনা ছাড়া পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এবং তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।
এ তালিকায় আরও রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান এবং সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া তৎকালীন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ওসি বিএম ফরমান আলীও রয়েছেন পলাতক আসামিদের তালিকায়।
মামলার আগের অগ্রগতি
এর আগে গত ১৬ আগস্ট মামলায় ১১ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার কথা ছিল। তবে দুজনের নামে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু না হওয়া এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের বিষয়ে নন এক্সিকিউশন রিপোর্ট না পাওয়ায় প্রসিকিউশন সময় আবেদন করে। পরে আজকের দিন শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
গত ২৭ জুলাই ট্রাইব্যুনাল-২ প্রসিকিউশনের দাখিল করা ৪১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। একই সঙ্গে পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং কারাবন্দি আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
মামলায় মোট দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এখন পলাতক আসামিদের হাজির করতে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করবে ট্রাইব্যুনাল।








