সাজার বিরুদ্ধে বিদিশার আপিল, জামিন নামঞ্জুর

রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক। একই সঙ্গে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিন চাইলেও তা নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির শুনানি শেষে বিদিশার জামিন আবেদন নাকচ করেন। ফলে আপাতত তাকে কারাগারেই থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. মাহমুদুল কবির বলেন, “আমরা সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেছি। আদালত আপিলটি গ্রহণ করেন। একইসঙ্গে জামিন আবেদন করছিলাম। শুনানিতে বলেছি, বিদিশা এরশাদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে। তাকে মহিলা বিবেচনায় জামিন মঞ্জুর করা হোক। কিন্তু তার হাতজবাস কম থাকায় জামিন নামঞ্জুর হয়েছে। এই আদেশের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।”
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এর আগে গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম এ মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। একই রায়ে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৬ আগস্ট তার জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
বিজ্ঞাপন
২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে মামলাটি দায়ের করেন মোশাররফ হোসেন। তিনি মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০১ সালে বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি।
পরে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়। অভিযোগে বলা হয়, ওই বছরের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন এবং তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে বায়নানামাও সম্পাদিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার পর অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
মামলার নথি অনুযায়ী, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিতে চাপ দেওয়া হলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।
বিজ্ঞাপন
বাদীর অভিযোগ, এরপর বিভিন্ন অজুহাতে সময় পার করা হলেও টাকা কিংবা ফ্ল্যাট—কোনোটিই ফেরত দেওয়া হয়নি। এমনকি টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানালে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় আরও দাবি করা হয়, বিদিশা বাদীকে জানিয়েছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে। বর্তমানে সাজার বিরুদ্ধে করা আপিলের পাশাপাশি জামিনের বিষয়টিও উচ্চ আদালতে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিদিশার আইনজীবী।








