Logo

অফিস সহায়ককে মারধরের পর ক্ষমা চাইতে এসে আদালতের বিরুদ্ধেই মিথ্যা অভিযোগ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২১:৪৭
অফিস সহায়ককে মারধরের পর ক্ষমা চাইতে এসে আদালতের বিরুদ্ধেই মিথ্যা অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের এক অফিস সহায়ককে কমলাপুর রেলওয়ে থানায় চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। পরে ওই ঘটনায় আদালতে এসে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাইলেও, মারধরের দায় এড়াতে আদালতের বিরুদ্ধেই মিথ্যা রিপোর্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনাটি ঘটে গত ২৯ আগস্ট (শনিবার) বিকেল আনুমানিক ৬টার দিকে। ঢাকা অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ১০ নম্বর আদালতের অফিস সহায়ক সাকিব আল হাসান এগারসিন্দুর গোধূলি এক্সপ্রেস থেকে নামার সময় এক কনস্টেবলসহ আরও দুই-তিনজন সাদা পোশাকের ব্যক্তি তার কাঁধে থাকা ব্যাগের পেছনে হাত দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সাকিব তাদের কাছে জানতে চান, কেন পেছন থেকে তার ব্যাগে হাত দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে সামনে থেকে ব্যাগ তল্লাশি করার কথাও বলেন তিনি। এ সময় সাকিব নিজেকে আদালতের কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দিলে ওই ব্যক্তিরা তাকে ছেড়ে দেন।

পরে বিষয়টি জানাতে সাকিব রেলওয়ে থানায় যান এবং সেখানে এসআই মোহাম্মদ আলীকে ঘটনাটি অবহিত করেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় এসআই মোহাম্মদ আলী তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন।

বিজ্ঞাপন

ঘটনাটি পরে মহানগর দায়রা জজ আদালতের নাজিরকে জানান সাকিব। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারককে বিষয়টি জানালে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ না করে প্রথমে এসআই মোহাম্মদ আলীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানোর পরামর্শ দেন।

বিচারক বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে চাকরিও চলে যেতে পারে। তাই আগে এসআই মোহাম্মদ আলীর বক্তব্য শোনা এবং তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানোর পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টার দিকে এসআই মোহাম্মদ আলী সংশ্লিষ্ট বিচারকের খাস কামরায় উপস্থিত হন। এ সময় সেখানে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ১১ নম্বর আদালত এবং অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ১৫ নম্বর আদালতের বিচারকরাও উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

খাস কামরায় এসআই মোহাম্মদ আলী গত শনিবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে উপস্থিত তিন বিচারককে অবহিত করেন। একই সঙ্গে ওই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিচারকদের কাছে ক্ষমা চান বলে জানা গেছে।

পরে উপস্থিত বিচারকরা এসআই মোহাম্মদ আলীকে ক্ষমা করে দেন এবং সাকিব আল হাসানের সঙ্গে তার হাত মিলিয়ে দেন। এরপর এসআই মোহাম্মদ আলী সংশ্লিষ্ট বিচারকের খাস কামরা থেকে চলে যান।

তবে অভিযোগ উঠেছে, সেখানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও পরবর্তীতে অফিস সহায়ককে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগের দায় এড়াতে আদালতের বিরুদ্ধেই একটি মিথ্যা রিপোর্ট তৈরি করা হয়। ওই রিপোর্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আদালতের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD