Logo

আসিফ মাহমুদের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ নিয়ে পিছু হটলো দুদক

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯:১০
আসিফ মাহমুদের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ নিয়ে পিছু হটলো দুদক
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা বদলি-বাণিজ্য, পদোন্নতি, পদায়ন ও অন্যান্য অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে এসব অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেছে—এমন বক্তব্য থেকে পরে সরে এসেছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞাপন

বুধবার দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ব্রিফিংয়ের সময় সম্ভবত ভুল করে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দ দুটি ব্যবহার করেছিলেন তিনি। তাই ওই শব্দ দুটি ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

এর আগে বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে দুদক জানায়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে বদলি-বাণিজ্য, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করা হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অভিযোগে আসিফ মাহমুদের পাশাপাশি তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং যুব-১ শাখার উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের নামও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে নতুন করে পদায়নের আদেশ দেওয়ার মাধ্যমে ৭৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। একই অভিযোগে ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য দেড় কোটি টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের জন্য আরও প্রায় দুই কোটি টাকা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মন্ত্রণালয় ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন টেন্ডার, কেনাকাটা ও অন্যান্য কার্যক্রমে অনিয়ম-দুর্নীতি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

দুদক সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগটি অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে। দলের নেতৃত্ব দেবেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম।

অনুসন্ধান দলের অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক মো. নাছরুল্লাহ হোসাইন এবং উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন ও রোমান উদ্দিন।

বিজ্ঞাপন

দলটি অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করবে। অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি দুদক।

ফলে আসিফ মাহমুদ ও অন্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বর্তমানে অনুসন্ধানের পর্যায়েই রয়েছে। দুদকের সংশোধিত বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেছে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো সংস্থাটি নেয়নি।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনটি প্রথমে ‘আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক’ শিরোনামে প্রকাশ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলামের সংশোধিত বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি সংশোধন করা হয়েছে।

জেবি/জেএইচআর/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD