সবার সঙ্গে সম্পর্কের দরজা খোলা রেখেই চুক্তি করতে হবে: আসিফ মাহমুদ

পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ডায়াস্পোরা বিষয়ক উপকমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি, প্রবাসী শ্রমবাজার, বিমান টিকিটের মূল্যবৃদ্ধি এবং চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়ে সরকারের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বলে জানান আসিফ মাহমুদ। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত স্বাধীনতা ও ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের উচিত সব দেশের সঙ্গে সম্পর্কের সুযোগ উন্মুক্ত রেখে বাণিজ্যিক কিংবা সামরিক যেকোনো চুক্তিতে যাওয়া। কোনো একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে গিয়ে যেন অন্য কোনো রাষ্ট্র বা অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
দেশের তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপির এই নেতা। তার দাবি, অতিরিক্ত মূল্য এবং বিভিন্ন ধরনের ভুতুড়ে বিল পরিশোধের পরও নাগরিকরা প্রয়োজনীয় গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বর্তমান পরিস্থিতি দেশের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে পরিস্থিতি ২০০৫ সালের আগের সময়ের মতো সংকটাপন্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রবাসী শ্রমবাজারে অনিয়ম এবং বিমান টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিষয়েও কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সৌদি আরবগামী বিমান টিকিটের দাম প্রায় ৩৫০ ডলার বা ৪০ হাজার টাকার মধ্যে নামিয়ে আনা হয়েছিল। বর্তমানে একই টিকিটের দাম সিন্ডিকেটের কারণে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা, এমনকি ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
দেশের বিভিন্ন খাতে নতুন করে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ করে তিনি বলেন, এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর পড়ছে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের প্রসঙ্গ তুলে আসিফ মাহমুদ বলেন, অন্যান্য দেশের কর্মীদের তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়া যেতে প্রায় ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। তার মতে, এ ধরনের ব্যয় কোনোভাবেই ন্যায্য বা সমতাভিত্তিক শ্রমবাজারের পরিস্থিতি নয়।
প্রবাসী কর্মীদের বিদেশ যাওয়ার খরচ কমানোর পাশাপাশি শ্রমবাজারে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
১১ দলীয় জোট ঘোষিত লংমার্চ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি। তার মতে, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির কার্যকারিতা অনেকাংশেই তাদের প্রতিবাদ করার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।
তিনি বলেন, লংমার্চের মাধ্যমে জনগণের দুর্ভোগ ও বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধে এটি প্রতিবাদের অংশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ওমরাহ শেষে দেশে ফিরে দেশবাসী, সহযোদ্ধা, প্রবাসী বাংলাদেশি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।








