Logo

মিটার ভাড়া মওকুফে সরকারের লাগবে ২৯ হাজার কোটি টাকা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২১:৪১
মিটার ভাড়া মওকুফে সরকারের লাগবে ২৯ হাজার কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ বিল থেকে মিটার ভাড়া পুরোপুরি তুলে দিতে হলে সরকারের প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, মিটার ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফের সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করবে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ৬৮ বিধির আলোচনায় বিরোধী দলের দাবির জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার আপাতত সবার জন্য মিটার ভাড়া পুরোপুরি মওকুফ করতে না পারলেও গ্রাহকদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রেখেছে। কোনো গ্রাহক নিজ খরচে মিটার কিনে নিলে পরবর্তী সময়ে তাকে মাসিক মিটার ভাড়া দিতে হবে না।

এ ছাড়া ভুতুড়ে বিলসহ বিলিংয়ের নানা অনিয়ম স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের অধিকাংশ বিদ্যুৎ গ্রাহককে স্মার্ট প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ভুল নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অদূরদর্শিতাকে দায়ী করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন আশ্বস্ত করেছেন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’, তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মেয়াদ শেষে অবসরে যাওয়া পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা শেষ হয়েছে। এ সপ্তাহ থেকেই এসব কেন্দ্র থেকে কোনো ধরনের ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়াই জাতীয় গ্রিডে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে এইচএফওভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কারিগরি ত্রুটি ও কয়লা সংকটের কারণে বন্ধ থাকা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ইউনিটও চলতি সপ্তাহে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

গ্যাসের নতুন উৎস অনুসন্ধানে সমুদ্র ও স্থলভাগে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। গত মে মাসে শুরু হওয়া অফশোর বিডিং রাউন্ডের পাশাপাশি ১০৬টি কূপ খননের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি কূপের কাজ বর্তমানে মাঠপর্যায়ে চলমান।

বিজ্ঞাপন

গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে চলতি বছরের মধ্যেই দুটি নতুন এফএসআরইউ স্থাপনের চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাতারবাড়িতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজও শুরু হয়েছে।

জ্বালানি তেলের শোধন সক্ষমতা বাড়াতে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। এর ফলে ক্রুড অয়েল পরিশোধনের সক্ষমতা বর্তমানের ১৫ লাখ টন থেকে তিন গুণ বাড়িয়ে ৪৫ লাখ টনে উন্নীত করা হবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে শিল্পোদ্যোক্তা ও আমদানিকারকদের মাত্র ১ শতাংশ শুল্কে রুফটপ সোলার প্যানেল আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ছয় মাসের জন্য অগ্রিম আয়কর ও ভ্যাট মওকুফের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

উৎপাদিত অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ সরকারের কাছে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রির সুযোগও চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে অতিরিক্ত ১৫ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের জ্বালানি খাতকে সম্পূর্ণ সংকটমুক্ত করার আশ্বাস দেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD