Logo

ঘন ঘন লোডশেডিং সত্ত্বেও বিদ্যুৎ বিল বেশি? যেভাবে খরচ কমাবেন

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৬:৫৫
ঘন ঘন লোডশেডিং সত্ত্বেও বিদ্যুৎ বিল বেশি? যেভাবে খরচ কমাবেন
ছবি: সংগৃহীত

লোডশেডিং বেশি হলেই যে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলও কম হবে—এমন ধারণা সবসময় ঠিক নয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার সময় কম হলেও অন্য সময়ে এসি, ফ্রিজ, পানির পাম্প, গিজার, হিটারসহ বেশি বিদ্যুৎ খরচকারী যন্ত্র দীর্ঘসময় চালালে মোট ইউনিট বেড়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে মিটার রিডিংয়ের ভুল, মিটারের ত্রুটি কিংবা বাড়ির বৈদ্যুতিক লাইনের সমস্যাও অস্বাভাবিক বিলের কারণ হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

তাই ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের মধ্যেও বিল বেশি এলে কয়েকটি বিষয় পর্যায়ক্রমে যাচাই করা প্রয়োজন।

আগের মাসগুলোর সঙ্গে বিল তুলনা করুন

প্রথমেই বর্তমান বিলটি আগের কয়েক মাসের বিলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত। শুধু কত টাকা বিল এসেছে তা নয়, কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে সেটিও খেয়াল করুন।

বিজ্ঞাপন

এক মাসে ইউনিটের পরিমাণ হঠাৎ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। আবার ইউনিট প্রায় একই থাকলেও বিভিন্ন চার্জের কারণে মোট বিলের অঙ্কে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। তাই বিলের বিস্তারিত বিবরণ পরীক্ষা করা জরুরি।

মিটার রিডিং ঠিক আছে কি না দেখুন

বিলে উল্লেখ করা মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে মিটারে থাকা বর্তমান রিডিং মিলিয়ে নিন। দুইয়ের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

বিজ্ঞাপন

কোনো মাসে অনুমান করে রিডিং নেওয়া হলে কম বা বেশি বিল তৈরি হতে পারে। পরবর্তী সময়ে প্রকৃত রিডিংয়ের ভিত্তিতে সেই পার্থক্য সমন্বয়ও হতে পারে। এ কারণে একটি মাসের বিল দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে কয়েক মাসের রিডিং ও ইউনিটের হিসাব পাশাপাশি দেখা ভালো।

বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে কোন যন্ত্র?

লোডশেডিংয়ের কারণে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহার কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সরবরাহ থাকা সময়ে উচ্চ ক্ষমতার যন্ত্র দীর্ঘক্ষণ চললে হিসাবটি উল্টো হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এসি: গরমের সময় বিদ্যুৎ বিল বাড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে এসি। খুব কম তাপমাত্রায় দীর্ঘসময় চালালে বিদ্যুৎ খরচ আরও বাড়তে পারে।

ফ্রিজ: এটি সাধারণত সারাক্ষণ চালু থাকে। ঘন ঘন দরজা খোলা, অতিরিক্ত বরফ জমা, দরজার রাবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করার কারণে খরচ বাড়তে পারে।

পানির পাম্প: প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় পাম্প চালালে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ হয়। পাম্পে যান্ত্রিক সমস্যা থাকলেও একই কাজের জন্য বেশি বিদ্যুৎ প্রয়োজন হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

গিজার ও হিটার: তুলনামূলক বেশি ক্ষমতার এসব যন্ত্র প্রয়োজন না থাকলে চালু রাখা উচিত নয়।

ইস্ত্রি, রাইস কুকার ও ইলেকট্রিক কেটলি: স্বল্প সময় ব্যবহার করা হলেও এগুলো উচ্চ ক্ষমতার যন্ত্র। নিয়মিত ও বেশি ব্যবহারে মাসিক ইউনিট বাড়তে পারে।

স্ট্যান্ডবাই অবস্থার খরচও হিসাব করুন

বিজ্ঞাপন

টিভি, কম্পিউটার, মনিটর, চার্জারসহ বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার শেষে শুধু রিমোট বা পাওয়ার বাটন দিয়ে বন্ধ করে রাখলে অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো পুরোপুরি বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না।

একেকটি ডিভাইসের স্ট্যান্ডবাই খরচ সাধারণত খুব বেশি নয়। তবে একাধিক যন্ত্র দীর্ঘসময় এভাবে সংযুক্ত থাকলে সামান্য সামান্য খরচ যোগ হয়ে যেতে পারে। তাই ব্যবহার না থাকলে সম্ভব হলে সুইচ বা পাওয়ার স্ট্রিপ বন্ধ করে রাখা ভালো।

বিদ্যুৎ ফিরে এলে একসঙ্গে ভারী যন্ত্র চালাবেন না

বিজ্ঞাপন

লোডশেডিংয়ের পর বিদ্যুৎ ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে ফ্রিজ, এসি, পাম্প, গিজার বা হিটারসহ একাধিক ভারী যন্ত্র একসঙ্গে চালু করার প্রবণতা দেখা যায়। এতে একই সময়ে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার ওপর বেশি লোড তৈরি হতে পারে।

তাই সম্ভব হলে ভারী যন্ত্রগুলো একসঙ্গে না চালিয়ে কিছুটা সময়ের ব্যবধান রাখা ভালো। এতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা সহজ হওয়ার পাশাপাশি বাড়ির বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর অতিরিক্ত চাপও কমানো যায়।

সব যন্ত্র বন্ধ করেও মিটারে খরচ দেখাচ্ছে?

বিজ্ঞাপন

বাড়ির সব বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ করার পর মিটার অস্বাভাবিকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সংকেত দিচ্ছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা যেতে পারে।

সব যন্ত্র বন্ধ থাকার পরও যদি ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তাহলে বৈদ্যুতিক লাইনে লিকেজ, ত্রুটি বা কোনো সংযোগজনিত সমস্যা থাকতে পারে। তবে মিটার নিজে খোলা বা বৈদ্যুতিক সংযোগে হাত দেওয়া উচিত নয়। এ ধরনের সমস্যা পরীক্ষা করতে দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ানের সহায়তা নেওয়াই নিরাপদ।

অস্বাভাবিক বিল এলে অভিযোগ করুন

বিজ্ঞাপন

কয়েক মাসের ব্যবহারের তুলনায় বর্তমান বিল অস্বাভাবিক মনে হলে, মিটার রিডিংয়ে ভুল থাকার সন্দেহ হলে বা মিটার নিয়ে কোনো সমস্যা মনে হলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কাছে অভিযোগ করা উচিত।

প্রয়োজনে মিটার পরীক্ষা কিংবা পুনরায় রিডিং নেওয়ার অনুরোধ করা যেতে পারে। অভিযোগের সময় আগের কয়েক মাসের বিল, বর্তমান মিটার রিডিং এবং অস্বাভাবিক বিলের তথ্য সঙ্গে রাখলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে বোঝানো সহজ হবে।

লোডশেডিংকেই একমাত্র কারণ ভাববেন না

বিজ্ঞাপন

ঘন ঘন লোডশেডিং হলেও বিদ্যুৎ বিল বেশি আসার অর্থ এই নয় যে বিলটি ভুল। বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকার সময় কোন যন্ত্র কতক্ষণ ব্যবহার হচ্ছে, সেটিই মোট ইউনিটের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি মিটার রিডিংয়ের ভুল, মিটারের ত্রুটি কিংবা বাড়ির অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক সমস্যার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তাই বিল অস্বাভাবিক মনে হলে প্রথমে ইউনিটের পরিমাণ, মিটার রিডিং এবং বেশি বিদ্যুৎ খরচকারী যন্ত্রগুলোর ব্যবহার যাচাই করুন। এরপরও হিসাব না মিললে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা এবং দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ানের সহায়তা নিন। এতে অপ্রয়োজনীয় বাড়তি বিলের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD