Logo

গাজী নজরুলকে কমিটিতে রাখা নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯:১৯
গাজী নজরুলকে কমিটিতে রাখা নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক
ছবি: সংগৃহীত

বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদীয় কমিটিতে রাখা হবে কি না, তা নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের নেতাদের মধ্যে উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছে। এ সময় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ, সংসদ সদস্যপদ এবং রাজনৈতিক নৈতিকতার বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন চলাকালে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে এ বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

আলোচনার শুরুতে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম আগে কয়েকটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। তবে বিরোধীদলীয় নেতার চিঠি ও অনুরোধের পর তাকে সেসব কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে যতক্ষণ কারও পদ বহাল থাকে, ততক্ষণ সংসদের কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এবং নিজের মতামত দেওয়ার সুযোগ প্রত্যেক সদস্যেরই রয়েছে। সরকারি বা বিরোধী দলের নির্দিষ্ট কোটার কমিটিতে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় এবং গুরুত্বপূর্ণ দুটি কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার পর অন্য একটি কমিটিতে তাকে রাখা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

চিফ হুইপ জানান, ওই কমিটি তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ এবং বছরে এক-দুবার বৈঠক হতে পারে। তবে বিরোধী দলের আপত্তি থাকলে গাজী নজরুলের নাম বাদ দিতে সরকারি দলের কোনো আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

নৈতিকতার প্রশ্ন তুললেন বিরোধীদলীয় নেতা

এরপর বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, গাজী নজরুল ইসলামকে তাদের দলের কোটায় কমিটিতে দেওয়া হয়নি—এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্যই তারা বিষয়টি উত্থাপন করেছেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, গাজী নজরুলকে তাদের পক্ষ থেকে কমিটির জন্য প্রস্তাব করা হয়নি। নৈতিক কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাই জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কোনো কমিটিতে তাকে না রাখাই নৈতিকভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত হবে বলে মনে করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকলে গাজী নজরুলকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া একটি ভালো দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।

৭০ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টানলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর স্পিকারের অনুমতি নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী শুধু কোনো রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার হলেই একজন সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হয়ে যায় না।

বিজ্ঞাপন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৭০ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিরোধী দলকে একটি রাজনৈতিক পরামর্শও দেন। তিনি বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছিলেন। এ বিষয়টি সামনে রেখে বিরোধী দল ৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে স্পিকার বা নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করলে তার সংসদ সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন তোলা সম্ভব হতে পারে।

তবে বিরোধীদলীয় নেতার আপত্তিকে সম্মান জানিয়ে গাজী নজরুলকে সংশ্লিষ্ট কমিটি থেকে বাদ দিতে সরকারি দলের কোনো আপত্তি নেই বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

হাস্যরসের সুরে জবাব বিরোধীদলীয় নেতার

বিজ্ঞাপন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা কিছুটা হাস্যরসের সুরে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, দুর্বল কাউকে জব্দ করতে গ্রামাঞ্চলে নানা ধরনের রাজনৈতিক কৌশলের কথা প্রচলিত রয়েছে। সংসদকে প্রাণবন্ত রাখতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও মাঝে মাঝে এমন কিছু পরামর্শ দেন।

তিনি স্পষ্ট করেন, গাজী নজরুলকে ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ফলে তিনি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন—এ বিষয়টি নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই।

তবে গাজী নজরুলকে কমিটিতে না রাখার বিষয়ে বিরোধী দলের নৈতিক অবস্থান বিবেচনা করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

সদস্যপদ বহাল, তবে কমিটি থেকে বাদ

এরপর আবারও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিরোধী দলের অবস্থান থেকে বোঝা যাচ্ছে—তারা গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্যপদ বহাল রাখতে চান, কিন্তু তাকে কোনো সংসদীয় কমিটিতে দেখতে চান না।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুনরায় উল্লেখ করেন, প্রচলিত সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলাম এখনো বৈধ সংসদ সদস্য। বিরোধী দল ৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে কোনো পদক্ষেপ না নিলে তার সদস্যপদ বহাল থাকবে।

তবে বিরোধীদলীয় নেতার অনুরোধ ও সম্মানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত কমিটি থেকে গাজী নজরুলকে বাদ দেওয়ার কথা জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

সংশোধিত কমিটি গঠনের প্রস্তাব

বিতর্কের শেষ পর্যায়ে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি আবারও সংসদে বক্তব্য দেন। তিনি সব সংসদ সদস্যের প্রতি সম্মান এবং বিরোধীদলীয় নেতার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে ‘সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটি’ পুনর্গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ এবং সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৪৫ বিধির অধীনে গাজী নজরুল ইসলামকে বাদ দিয়ে সংশোধিত কমিটির সদস্যদের নাম সংসদে উপস্থাপন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

ফলে গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে কয়েক দফা আলোচনা ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পর শেষ পর্যন্ত তাকে প্রস্তাবিত কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার পথই চূড়ান্ত হয়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD