Logo

১৭ সেপ্টেম্বর কার্ড পাবেন এক লাখ কৃষক

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৬:৪৭
১৭ সেপ্টেম্বর কার্ড পাবেন এক লাখ কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

কৃষকদের জন্য সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

বিজ্ঞাপন

একই দিনে দেশের ৫০ জেলায়ও উদ্বোধনী কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। এদিন সারাদেশের এক লাখ কৃষককে প্রণোদনার অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এরই মধ্যে নিবন্ধনের আওতায় আসা ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের মধ্যে এক লাখের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।

কৃষক কার্ডকে কৃষকদের ডিজিটাল পরিচয়পত্রের পাশাপাশি কৃষিসেবা পাওয়ার সমন্বিত মাধ্যম হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এর আগে গত ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের দিনে প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ১০ জেলার ১১টি ব্লকে প্রাথমিকভাবে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়।

এ কর্মসূচির আওতায় শুধু ফসল উৎপাদনকারী কৃষকই নন, কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত মৎস্যচাষি ও প্রাণিসম্পদ খামারিসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ফসল উৎপাদক, বর্গাচাষি, ইজারা চাষি, মৎস্যচাষি ও প্রাণিসম্পদ খামারিরা এ কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন সুবিধা পাবেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণে ভর্তুকি, কৃষিঋণ, সেচ সুবিধা, কৃষিযন্ত্র, সরকারি প্রণোদনা, কৃষিবিমা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আবহাওয়া ও বাজারসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যও কার্ডধারী কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।

মূল পর্যায়ে কৃষক কার্ডে কিউআর কোড যুক্ত করা হচ্ছে। কার্ডধারী কৃষকদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং সরকারি সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কৃষকের পরিচয় সহজেই যাচাই করা যাবে।

বিজ্ঞাপন

এ পর্যন্ত নিবন্ধিত ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের মধ্যে এক লাখের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। ফলে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন প্রায় এক লাখ কৃষকের কাছে প্রণোদনার অর্থ পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য আরও পাঁচ লাখ কৃষকের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

কৃষক কার্ডের আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘প্রোগ্রাম অন অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের অধীনে কৃষক কার্ড কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক, ইফাদ ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পটি সংক্ষেপে ‘পার্টনার’ প্রকল্প নামে পরিচিত।

বিজ্ঞাপন

পার্টনার প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৬ লাখ ৩০ হাজার কৃষক নিবন্ধনের আওতায় এসেছেন। নিবন্ধিত কৃষকদের প্রায় ৯৬ শতাংশ জমিতে ফসল উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। এ ছাড়া প্রায় দেড় শতাংশ মৎস্যচাষি এবং ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ গবাদিপশু পালনকারী রয়েছেন। লবণচাষির সংখ্যা ১৫৭ জন, যা মোট নিবন্ধিত কৃষকের শূন্য দশমিক ১ শতাংশ।

জমির মালিকানার তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত কৃষকদের ৪৩ শতাংশের বেশি ক্ষুদ্র কৃষক। তাদের মালিকানাধীন জমির পরিমাণ ৫০ থেকে ২৪৯ শতক। ৫ থেকে ৪৯ শতক জমির মালিক প্রান্তিক কৃষকের হার প্রায় ৪০ শতাংশ। শূন্য থেকে ৫ শতক জমির মালিক কৃষকের সংখ্যা প্রায় ৮ শতাংশ।

অন্যদিকে, ২৫০ থেকে ৭৪৯ শতক জমির মালিক মাঝারি কৃষকের হার ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। ৭৫০ শতকের বেশি জমির মালিক বড় কৃষকের হার শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পার্টনার প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী, দেশে কৃষকের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের বাকি কৃষকদেরও এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD