হেলথ কার্ড নিয়ে সুখবর দিল সরকার, প্রথম ধাপে পাবেন যারা

ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের পর এবার দেশের নাগরিকদের জন্য চালু হতে যাচ্ছে হেলথ কার্ড। সরকারের নতুন এই উদ্যোগের আওতায় আগামী জুলাই মাস থেকে প্রথম ধাপে পাঁচ জেলার বাসিন্দারা এ সুবিধা পাবেন।
বিজ্ঞাপন
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজ ও সবার নাগালে পৌঁছে দিতে হেলথ কার্ড চালুর কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ কার্ডের মাধ্যমে একজন নাগরিকের চিকিৎসা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক জায়গায় সংরক্ষিত থাকবে।
প্রথম পর্যায়ে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, খুলনা, নরসিংদী ও নোয়াখালী জেলায় হেলথ কার্ড চালু করা হবে। পরে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য জেলাতেও এ সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।
বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হেলথ কার্ড সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিগুলোর একটি। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তদারকি রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ দ্রুত কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ই-হেলথ কার্ড হবে একটি ডিজিটাল পরিচয়ভিত্তিক স্বাস্থ্য কার্ড। এতে প্রতিটি নাগরিকের জন্য আলাদা ইউনিক আইডি থাকবে এবং তার চিকিৎসা ইতিহাস ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত হবে। কার্ড ব্যবহার করেই রোগীর পূর্ববর্তী রোগ, চিকিৎসা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যতথ্য জানা যাবে।
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, এ কার্ডের মাধ্যমে সরকারি ও নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে। এছাড়া বছরে একবার বিনামূল্যে মৌলিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সুযোগ থাকবে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ অনেকের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। সেই ব্যয় কমানোর পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য বছরে অন্তত একবার বিনামূল্যে কিছু মৌলিক পরীক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও। তবে তারা বলছেন, বিদেশের বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্যখাতে ডিজিটাল সেবা চালুর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, বিভিন্ন মডেলের তুলনায় সময় নষ্ট না করে কার্যক্রম শুরু করা উচিত। বাস্তবায়নের সময় পাওয়া অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও উন্নয়ন করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, হেলথ কার্ডের সুফল দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ব্যাপক প্রচারণার পাশাপাশি হাসপাতালগুলোকে এ ব্যবস্থার জন্য উপযুক্তভাবে প্রস্তুত করতে হবে।








