Logo

৪৫ লাখ নিরক্ষর মানুষকে নিয়ে সরকারের বড় পরিকল্পনা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৫:৫২
৪৫ লাখ নিরক্ষর মানুষকে নিয়ে সরকারের বড় পরিকল্পনা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা প্রায় ৪৫ লাখ নিরক্ষর মানুষকে জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষা, কারিগরি জ্ঞান ও কর্মদক্ষতায় গড়ে তুলতে বড় পরিসরে পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং দেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’কে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো (বিএনএফই) এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে। সরকারের লক্ষ্য শুধু মানুষকে পড়তে ও লিখতে শেখানো নয়; বরং শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে ব্যবহারিক শিক্ষা, প্রযুক্তি জ্ঞান ও প্রাক-বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা।

অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-এর হিসাবে, দেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। এই হার আরও বাড়িয়ে শিক্ষাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে কর্মমুখী দক্ষতার আওতায় আনতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষাকে কর্মসংস্থান ও বাস্তব জীবনের দক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। শুধু বর্ণমালা শেখানোর মধ্যে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী প্রায় ৪৫ লাখ কর্মক্ষম মানুষকে ব্যবহারিক শিক্ষার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগ সফল হলে ২০৩১ সালের মধ্যে দেশে সাক্ষরতার হার ৯০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো জানিয়েছে, বয়স্ক ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষার সুযোগ দিতে বৈশ্বিক ‘ইচ ওয়ান টিচ ওয়ান’ মডেলের আদলে ‘অ্যাডাল্ট অ্যান্ড ফাংশনাল লিটারেসি ফর অ্যাবিলিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (আলফা)’ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কর্মসূচিটির শুরুতে ৪০ জেলার ৪০টি উপজেলায় ৩৫ হাজার মানুষকে নিয়ে এক বছরের পাইলট প্রকল্প পরিচালনা করা হবে। পরীক্ষামূলক পর্যায়ের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৪৫ লাখ নিরক্ষর মানুষকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের নয়, বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু ও শিক্ষাজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন কিশোর-কিশোরীদের নিয়েও আলাদা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ১৫৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পরিচালিত প্রকল্পের প্রথম ধাপে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ১৯ হাজার ২০০ শিশুকে উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী আরও ১৯ হাজার ২০০ কিশোর-কিশোরীকে প্রাক-বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাত বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য শুধু নিরক্ষরতা দূর করা নয়। শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত মানুষকে কারিগরি জ্ঞান ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তাদের জন্য জীবনব্যাপী জীবিকার সুযোগ তৈরি করাই এ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।

এর আগে কক্সবাজারে ‘স্কিলফো’ পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ৬ হাজার ৮২৫ তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের পর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে সেখানে একটি কার্যকর মডেল তৈরি হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রকল্পটির দ্বিতীয় পর্যায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ পর্যায়ে আরও ১৬ জেলার ৬৪টি উপজেলায় ১ লাখ তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আজ ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, সাক্ষরতার পাশাপাশি জীবনমুখী শিক্ষা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও কর্মদক্ষতা তৈরির এই সমন্বিত কর্মসূচিগুলো মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতা কমানোর পাশাপাশি বড় একটি জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD