Logo

আজ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৫:৫৭
আজ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস
ছবি: সংগৃহীত

আজ ৮ সেপ্টেম্বর, আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। মানুষের জীবনে সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরা এবং শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই প্রতিবছর এ দিবস পালন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এবার আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো—‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’। এবারের প্রতিপাদ্যে সাক্ষরতাকে শুধু পড়া, লেখা বা গণনার মৌলিক সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানবিক উন্নয়ন, পরিবেশ সচেতনতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তি হিসেবে দেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন। তারা সাক্ষরতার বিস্তার, শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, সাক্ষরতা বিস্তারে বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে এখনো বড় একটি জনগোষ্ঠী প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত।

সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা ও ঝরে পড়া শিশু-কিশোর, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং শিক্ষাবঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষকে প্রচলিত অক্ষরজ্ঞান থেকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তাদের প্রয়োগিক সাক্ষরতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও প্রাক-বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদেও সর্বজনীন, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার ব্যবস্থা এবং নিরক্ষরতা দূর করার বিষয়টি রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। সেই সাংবিধানিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক ও বয়স্ক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ে নানা আয়োজন রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে রাজধানীর উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো (বিএনএফই) মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেবেন।

বিজ্ঞাপন

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার। স্বাগত বক্তব্য দেবেন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাত। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় আয়োজন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

কেন্দ্রীয় আয়োজনের পাশাপাশি দেশের সব জেলাতেও দিবসটি ঘিরে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের সমন্বয়ে বিভিন্ন জেলায় আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা পর্যায়েও র‌্যালি, আলোচনা সভা এবং জনসচেতনতা তৈরির বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন এনজিও নিজেদের উদ্যোগেও দিবসটি পালন করছে।

বিশ্বজুড়ে সাক্ষরতার গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে ইউনেস্কো ১৯৬৭ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে দিনটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষাবঞ্চিত মানুষের অধিকার ও নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান সময়ে শুধু অক্ষরজ্ঞান অর্জন যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা, দৈনন্দিন জীবনে জ্ঞান প্রয়োগ এবং কর্মদক্ষতা অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই সাক্ষরতার প্রকৃত সুফল পাওয়া সম্ভব। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এবারের প্রতিপাদ্য বাংলাদেশের শিক্ষাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেও তাৎপর্যপূর্ণ।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD