ঢাকার কংক্রিটের শহরে পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় ‘আকাশ নীড়’

‘পাখির রাজ্যে স্বাগতম’ স্লোগানকে সামনে রেখে রাজধানীর কংক্রিটের নগরীতে তৈরি হয়েছে ‘আকাশ নীড়’। ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্মিত এ ছাদে রয়েছে সবুজের সমারোহ, ফুল ও ফলের গাছ, জলাধার, পাখির খাবার এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ‘আকাশ নীড়’ উদ্বোধন করেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, নগরায়ণের কারণে সবুজ এলাকা ও জীববৈচিত্র্যের পরিসর ক্রমেই কমে আসছে। এ অবস্থায় ছাদবাগান শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয় নয়, নগরের পরিবেশ রক্ষারও কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভবনের ছাদে সবুজায়ন ও পাখির নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে এগিয়ে এলে নগরের পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞাপন
মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, ‘আকাশ নীড়’ মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করার একটি উদ্যোগ। এ ধরনের আয়োজন নগরবাসীর পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দায়িত্বশীল করে তুলতে পারে।
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ইট-পাথরের ব্যস্ত ঢাকায় সবুজ, নির্মল বাতাস এবং পাখির কলতান ক্রমেই দুর্লভ হয়ে উঠছে। তবে পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে কংক্রিটের শহরেও সবুজ ও প্রাণের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ‘আকাশ নীড়ে’ ৫৮ প্রজাতির মোট ৪১৮টি গাছ রয়েছে। এর মধ্যে পাখির খাদ্যের উৎস ও পরাগায়নের জন্য ৩০ প্রজাতির ২২৯টি ফুলের গাছ, ১৪ প্রজাতির ৪১টি ফলের গাছ এবং ১১ প্রজাতির ৪৪টি অর্নামেন্টাল গাছ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পাখিদের জন্য পদ্ম ও শাপলা সমৃদ্ধ জলাধার এবং বার্ডস বাথ রাখা হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছে বাঁশের কৃত্রিম ঝোপঝাড় ও পাখির ঘর। বড় ক্যানোপিযুক্ত গাছের পরিবেশও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় খরগোশ, বানর ও কাঠবিড়ালীর জন্য নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে।
ফরিদা খানম বলেন, ঢাকার ভবনগুলোর ছাদ ধীরে ধীরে সবুজ হয়ে উঠলে শহর আরও বাসযোগ্য ও প্রাণবন্ত হতে পারে। প্রকৃতি সংরক্ষণ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, প্রত্যেক নাগরিকেরও দায়িত্ব রয়েছে।
শুধু পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য নয়, নগরবাসীর স্বস্তির কথাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে ‘আকাশ নীড়ে’। এখানে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশ্রামস্থল, ছাতা ও কাঠের চেয়ার। সবুজ, ফুলের সুবাস ও পাখির ডাক মিলিয়ে ব্যস্ত নগরজীবনে জায়গাটি হয়ে উঠেছে প্রশান্তির একটি ছোট পরিসর।
বিজ্ঞাপন
ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








