Logo

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:০৪
নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে
ছবি প্রতিনিধি।

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। তিনি বলেন, পোল্ট্রি শিল্পে উৎপাদন ব্যয় কমানো, মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য সরবরাহে খামারি, ফিড উৎপাদনকারী ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এই সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন খামারিরা লাভবান হবেন, অন্যদিকে ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ প্রোটিন পাবেন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর সদরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে "নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০ বাস্তবায়ন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদারকরণ”- শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতের মূল চালিকাশক্তি প্রান্তিক খামারিরা। তাদের টিকিয়ে রাখা এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। সে কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খামারিদের কৃষক কার্ডের আওতায় এনেছেন, যাতে তারা কৃষির মতো সহজ শর্তে ঋণ, বিদ্যুৎ সুবিধা ও সরকারি প্রণোদনা পেতে পারেন।

তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন শুধু খামারির স্বার্থে নয়, পুরো জাতির স্বার্থে জরুরি। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে একদিকে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যায়। তাই খামারিদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উৎপাদন ও ওষুধ ব্যবহারে সচেতন করতে মাঠ পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আরও কাজ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার চায় উৎপাদন ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে থাকুক এবং ভোক্তারাও ন্যায্যমূল্যে নিরাপদ খাদ্য পেতে পারেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে পোল্ট্রি খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশ থেকে হ্যাচিং ডিম রপ্তানি শুরু হয়েছে, যা এ খাতের জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাণিজ পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির বিকল্প নেই। প্রান্তিক পর্যায়ে উদ্যোক্তা বৃদ্ধি পেলে কর্মসংস্থান যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ভেজাল খাদ্য এবং মাদকের বিস্তার রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং খামারিদের সমস্যা সমাধানে সরকার ধারাবাহিকভাবে মাঠপর্যায়ে মতবিনিময় করছে। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় কমানো, সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি এবং বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, গাজীপুরে ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগের বিষয়েও সরকার সতর্ক রয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর গাজীপুর আয়োজিত কর্মশালায় জেলা প্রশাসক মো: নূরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: শাহজামান খান, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার মো: শাকিল আহমেদ, পুলিশ সুপার মো: জসীম উদ্দিন পিপিএম (বার), বাংলাদেশ ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (ফিয়াব) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক।

বিজ্ঞাপন

এ সময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধিদপ্তরে পরিচালক (সম্প্রসারণ) ড. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সদর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা: এস. এম. হারুন-অর-রশিদ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্হানীয় প্রাণিসম্পদ খামারিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD