Logo

১৯২ কোটি টাকার এআই হাব, পরামর্শক ব্যয় ৬২ কোটি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৪:১৩
১৯২ কোটি টাকার এআই হাব, পরামর্শক ব্যয় ৬২ কোটি
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ১৯২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) হাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত প্রকল্পে ৬২ কোটি টাকা পরামর্শক ব্যয় ধরা হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। ব্যয় কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার সুপারিশও করেছে কমিশন।

বিজ্ঞাপন

‘বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেন্দ্র করে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তৈরি’ শীর্ষক প্রকল্পটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে নেওয়া হচ্ছে। বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন বছর ছয় মাসে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৩৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বাকি প্রায় ১৫৯ কোটি টাকা বা ১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান হিসেবে দেবে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা)। এ অর্থায়ন নিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও কোইকার মধ্যে চুক্তি হয়েছে।

কারওয়ান বাজারের সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক-২-এর চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় এআই হাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে অভ্যন্তরীণ সজ্জাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত কাজ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

প্রকল্পের আওতায় এআই, বিগ ডেটা, ক্লাউড কম্পিউটিং, স্মার্ট ফ্যাক্টরি, সাইবার সিকিউরিটি, ব্লকচেইন ও থ্রিডি মডেলিংসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ১০টি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ, ৩০টি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা এবং প্রশিক্ষণার্থীদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের হার ৮০ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কোরিয়ান ভাষা প্রশিক্ষণের জন্য ২৫০টি কর্মসূচিও রাখার কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্প প্রস্তাবটি বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (এসপিইসি) বিবেচনার জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলে ব্যয়ের বিভিন্ন খাত নিয়ে আপত্তি ও প্রশ্ন তোলে কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগ।

এর মধ্যে প্রশিক্ষণ খাতে ৪২ কোটি ৩৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৭৫ জনের সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা, অংশগ্রহণকারীদের বিবরণ, সংখ্যা, প্রশিক্ষণের বিষয় এবং ব্যয় নির্ধারণের ভিত্তি জানতে চেয়েছে কমিশন।

প্রকল্পে পরামর্শক খাতে ৬২ কোটি টাকা রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরামর্শক সংস্থা নির্বাচন এবং কী ধরনের পরামর্শক সেবা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া ১৩ কোটি ৯৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকা অভ্যন্তরীণ সজ্জা ও অন্যান্য কাজে ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিশন এ ব্যয়ের প্রাক্কলন ও যৌক্তিকতা নিয়েও ব্যাখ্যা চেয়েছে। সরঞ্জাম কেনার দুটি খাতে প্রায় ৪১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, দুটি যানবাহনের জন্য ৯৮ লাখ টাকা এবং আসবাবপত্রে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিশন।

প্রকল্পে জনবল নিয়োগের প্রস্তাব থাকলেও অর্থ বিভাগের আন্তঃমন্ত্রণালয় জনবল নির্ধারণ কমিটির সুপারিশ ডিপিপিতে সংযুক্ত করা হয়নি। জনবল ও বেতন-ভাতার ব্যয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশ অনুসরণের কথা জানিয়েছে কমিশন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বৈদেশিক অর্থায়ন থাকায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অনাপত্তি-সম্মতিপত্রও ডিপিপিতে সংযুক্ত করার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের অপারেশন, ভবিষ্যৎ ব্যয় এবং কারিগরি দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা চেয়েছে কমিশন।

পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের যুগ্মপ্রধান মুহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেন্দ্র করে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তৈরির প্রকল্পের প্রস্তাব এসেছে। সামনে এটা নিয়ে (প্রকল্পের বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির) সভা হবে। সভা করার আগে আমরা কিছু মতামত দিয়েছি প্রকল্পের ব্যয়ের বিষয়ে। বাকিটা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বলবে।’

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের পরিচালক (কারিগরি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের আওতায় তরুণদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং স্থানীয়ভাবে মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করা হবে। ১ হাজার ৭৫ জনকে বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

৬২ কোটি টাকার পরামর্শক ব্যয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রকল্পে ১৫৯ কোটি টাকা কোইকা অনুদান দেবে। তাদের জনবলই আমাদের ট্রেনিং দেবে। এই টাকা তাদের জন্যই ব্যয় হবে।’

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD