সালাউদ্দিন তানভীরের কারাগারে নির্যাতনের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীর কারাগারে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন—এমন অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে বগুড়া জেলা কারা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে রাতে তাকে কারাগারের বাইরে নিয়ে গিয়ে ভোরে ফিরিয়ে আনার অভিযোগও অস্বীকার করেছে তারা।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, তানভীরের অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে বগুড়া জেলা কারাগার ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থানকালে তার ওপর শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের কোনো ঘটনা পাওয়া যায়নি। কোনো কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী তার সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন—এমন তথ্যও তারা পায়নি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত ৫ আগস্ট বগুড়া জেলা কারাগারে আসার পর তানভীর সেখানে আটক ছিলেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কারা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ৭ সেপ্টেম্বর তাকে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
এর আগে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কারাগার ও রিমান্ডে নির্যাতনের অভিযোগ করেন তানভীর। তার দাবি, ৫ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে নির্যাতন ও হুমকির মুখে থাকতে হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও দাবি করেন, চিকিৎসার নামে তাকে অজ্ঞাত ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি ৭০ থেকে ৮০টি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল।
তানভীর আরও অভিযোগ করেন, বগুড়া জেলা কারাগারে তাকে অপরিচ্ছন্ন, আলো-বাতাসহীন সেলে রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি কারাগারে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া এবং তাদের রাতে গাড়িতে করে বাইরে নিয়ে গিয়ে ভোরে ফেরত আনার অভিযোগও করেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বগুড়া কারা কর্তৃপক্ষ বলেছে, কোনো বন্দিকে রাতে কারাগারের বাইরে নিয়ে গিয়ে ভোরে ফিরিয়ে আনার মতো ঘটনা সেখানে ঘটেনি। এ ধরনের বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বাস্তবতাবিবর্জিত’ বলে দাবি করেছে তারা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কারা কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, তানভীরের অভিযোগের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ, নথি, ভিডিও, অডিও, সাক্ষ্য বা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা যেতে পারে। তাদের দাবি, যাচাই ছাড়া এমন তথ্য প্রচার করলে কারা বিভাগ সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।








