Logo

রূপপুর প্রকল্প : অক্টোবরের শুরুতেই বাংলাদেশে আসছে ইউরেনিয়াম

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪
রূপপুর প্রকল্প : অক্টোবরের শুরুতেই বাংলাদেশে আসছে ইউরেনিয়াম
ছবি: সংগৃহীত

আকাশপথ ব্যবহারের জটিলতা কাটিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম জ্বালানি বাংলাদেশে আসার নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর প্রথম চালানটি দেশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মোট সাতটি চার্টার্ড ফ্লাইটে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে আনার কথা রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু জ্বালানিও আসবে।

আগের সূচি অনুযায়ী গত ২৪ সেপ্টেম্বর একটি জ্বালানিবাহী ফ্লাইট বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে একটি দেশের আকাশসীমা ব্যবহারে আপত্তির কারণে সেটি আসতে পারেনি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওই জটিলতা আর নেই এবং রাশিয়া নতুন করে জ্বালানি সরবরাহের সময়সূচি দিয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “একটি দেশ তাদের আকাশপথ ব্যবহারে বাধা দিয়েছিল। তবে রাশিয়া নতুন করে এই জ্বালানি সরবরাহের সময়সূচি দিয়েছে। আশা করছি অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই এই জ্বালানি বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে।”

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের হয়ে বাংলাদেশের পিআর সংস্থা ট্রাইউইন গ্রুপ প্রকল্পের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গণমাধ্যমকে নিয়মিত অবহিত করে আসছে। সংস্থাটির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশের বাস্তবতায় সাধারণত জ্বালানিবাহী ফ্লাইট বৃহস্পতিবার রাতে দেশে আসে। পরদিন সকালে জ্বালানিবাহী গাড়িতে করে তা প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়, যাতে সড়কে যানজট কম থাকে এবং পরিবহন সহজ হয়। এই হিসাব অনুযায়ী ১ অক্টোবর জ্বালানি দেশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে রোসাটম ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় ২৪ সেপ্টেম্বর জ্বালানিবাহী কার্গো বাংলাদেশে আসতে পারেনি।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর জ্বালানি আসার কথা ছিল এবং প্রকল্প কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণের জন্য প্রস্তুতও ছিল। তবে কোনো কারণে রাশিয়া থেকে জ্বালানিবাহী ফ্লাইটটি আসেনি।

রোসাটমের পক্ষ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে রূপপুর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়, ফ্লাইটটি বিলম্বিত হচ্ছে এবং চলতি সপ্তাহে এটি নাও আসতে পারে। পরবর্তী ফ্লাইটের সময় পরে জানানো হবে বলেও জানানো হয়েছিল। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় থাকায় পরবর্তী ফ্লাইটের সময়সূচি লিখিতভাবে জানাতে রোসাটমকে অনুরোধ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩ জ্বালানি অ্যাসেম্বলি

অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রয়োজনীয় পুরো জ্বালানি বাংলাদেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সাতটি ফ্লাইটে রাশিয়া থেকে মোট ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি দেশে আসবে। একই সময়ে প্রথম ইউনিটের জন্যও কিছু জ্বালানি আসবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ইতোমধ্যে ইউনিট-১-এর প্রয়োজনীয় ফুয়েল রাশিয়া থেকে এনে লোড করা হয়েছে। প্রথম ইউনিটে ব্যবহৃত জ্বালানির একটি অংশ ১২ মাসের সাইকেল শেষে সরিয়ে পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ায় নেওয়া হবে। এ কারণে এবারের প্রথম দুটি ফ্লাইটে ইউনিট-১-এর প্রথম রিলোডের জ্বালানি আসার কথা রয়েছে।

২৪ সেপ্টেম্বর একটি চালান আসার কথা ছিল এবং পরবর্তী চালানটি ১ অক্টোবর আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কাছাকাছি সময়ে এসব চালান আসায় অনেক ক্ষেত্রে এগুলোকে দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টদের মতে, আকাশসীমা ব্যবহারের জটিলতার পেছনে জ্বালানির সংবেদনশীলতাও একটি কারণ হতে পারে। রাশিয়া থেকে আসা ফ্লাইটটিকে পথে বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করতে হয়। ইউরেনিয়াম অত্যন্ত সংবেদনশীল পারমাণবিক জ্বালানি হওয়ায় কোনো কোনো দেশ এ ধরনের কার্গো পরিবহনে অনুমতি দিতে অনিচ্ছুক হয়ে থাকতে পারে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD