Logo

ঢাকায় মনোরেলের দুই রুট বাছাইয়ে শুরু হচ্ছে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২০:০১
ঢাকায় মনোরেলের দুই রুট বাছাইয়ে শুরু হচ্ছে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় মেট্রোরেলের পরিপূরক ও ফিডার সার্ভিস হিসেবে এলিভেটেড মনোরেল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি সম্ভাব্য করিডোরের মধ্যে দুটি অগ্রাধিকারযোগ্য রুট চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সঙ্গে প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষার চুক্তি করেছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞাপন

প্রস্তাবিত রুটগুলোর মধ্যে মোহাম্মদপুর-পোস্তগোলা করিডোরের দৈর্ঘ্য ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার এবং উত্তরা সেন্টার হয়ে বিমানবন্দর-সাভার রুটের দৈর্ঘ্য ১৭ দশমিক ৬ কিলোমিটার। এ ছাড়া পূর্বাচল ও জলসিঁড়ি হয়ে বিমানবন্দর-বসুন্ধরা ২৫ দশমিক ২ কিলোমিটার, মধ্য বাড্ডা-ভুলতা ১৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার এবং রামপুরা-ডেমরা ১০ দশমিক ৩ কিলোমিটার করিডোরও সমীক্ষার আওতায় থাকছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ডিটিসিএ ভবনে মনোরেলসংক্রান্ত পরামর্শক সেবার চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ডিটিসিএর পক্ষে অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান এবং বুয়েটের ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশনের পরিচালক অধ্যাপক ড. সাইয়্যেদ ইশতিয়াক আহমেদ চুক্তিতে সই করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমান। ডিটিসিএর কর্মসূচির তালিকাতেও এদিন মনোরেল চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চুক্তি অনুযায়ী, প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মেয়াদ ছয় মাস। এতে সম্ভাব্য রুট ও অ্যালাইনমেন্ট, স্টেশন ও ডিপোর স্থান, যাত্রী চাহিদা, কারিগরি উপযোগিতা, পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব এবং অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান ও পরিকল্পনাধীন মেট্রোরেল এবং অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে মনোরেলের সংযোগ ও সমন্বয়ের সুযোগও পর্যালোচনা করা হবে।

ডিটিসিএর পরিকল্পনা অনুযায়ী, মেট্রোরেলের যেসব এলাকায় সরাসরি সংযোগ দেওয়া কঠিন, সেখানে মনোরেলকে বিকল্প বা পরিপূরক যোগাযোগব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মেট্রোরেল স্টেশন থেকে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর শেষ ধাপের সংযোগ বা ‘লাস্ট মাইল’ সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি সমীক্ষায় গুরুত্ব পাবে।

উন্নত সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পাঁচটি মনোরেল করিডোরের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার। তবে সমীক্ষার মাধ্যমে এসব করিডোর এবং ঢাকা মহানগর এলাকার অন্যান্য সম্ভাব্য রুট বিশ্লেষণ করে দুটি অগ্রাধিকারযোগ্য করিডোর চূড়ান্ত করা হবে।

বিজ্ঞাপন

ডিটিসিএ জানিয়েছে, সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সম্ভাব্য মনোরেল করিডোর নির্বাচন, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে বর্তমানে আলোচনায় থাকা রুটগুলো চূড়ান্ত নির্মাণপথ হিসেবে বিবেচিত নয়; সমীক্ষার ফলাফলের ওপরই অগ্রাধিকার নির্ধারণ নির্ভর করবে।

সমীক্ষাটি সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত হবে। প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির পর প্রকল্প বাস্তবায়নে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD