Logo

সাইবার আইনে সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৪:৪৭
সাইবার আইনে সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব
ছবি: সংগৃহীত

সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়ায় সাংবাদিকদের অন্যায় হয়রানি ও ভিকটিমাইজেশন ঠেকাতে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি তার কাছেও উপযুক্ত মনে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী নিয়ে তৈরি খসড়াটি মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন, সাইবার স্পেসে কাজ করা ব্যক্তি এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আরও আলোচনা করে মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, আইনটি যাতে নিপীড়নমূলক কোনো আইনে পরিণত না হয়, সে জন্য সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে খসড়া বিলটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও মতামত পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি, সম্পাদক, সাংবাদিক এবং সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এরই মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। এসব আলোচনায় অংশীজনদের লিখিতভাবে বা সরাসরি মতামত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আজকের বৈঠকে সম্পাদক মাহফুজ আনাম আরও কিছু সময় নিয়ে মিডিয়া ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে মতামত নেওয়ার এবং গণমাধ্যম যাতে আইনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বা ভিকটিমাইজ না হয়, সে জন্য সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেছে বলেও জানান মন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা মনে করি, সবার আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই আইনটা সমৃদ্ধ হবে। এখানে আমরা মিডিয়াকে টার্গেট করে আইনটা করতে চাইনি, চাই না এবং কোনো সাংবাদিক এটার শিকার হোক, এই আইনের অপপ্রয়োগ হোক, সেটা আমরা চাই না।”

বিজ্ঞাপন

সাংবাদিকদের জন্য সম্ভাব্য সুরক্ষা ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, সংবাদপত্র, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং অনলাইন মিডিয়ার কোনো সাংবাদিক যাতে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার একটি প্রস্তাব করা হয়েছে। বিষয়টি তিনি উপযুক্ত মনে করেছেন বলে জানান।

তার ভাষায়, “সংবাদপত্র, প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন মিডিয়ার কোনো সাংবাদিক যাতে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্য একটা প্রস্তাবও এখানে করা হয়েছে যে, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে... আদালতের অনুমতি নিতে হবে গ্রেপ্তারের আগে। সেটা আমরা উপযুক্ত মনে করেছি, সেটা তারপরেও রিকমেন্ডেশনস আসবে আগামী ১৫ দিন পরে।”

এ ছাড়া আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে বলে জানান মন্ত্রী। তার মতে, এতে কোনো মামলা বা বিষয় অনির্দিষ্ট সময় ধরে ঝুলে থাকার ঝুঁকি কমবে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট মতামত সমন্বয়ের জন্য পিআইওকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও তথ্য মন্ত্রণালয় এ কার্যক্রম সমন্বয় করবে। পাশাপাশি সংবাদপত্রের সম্পাদক পরিষদ, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংগঠন এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি প্যানেল গঠনের কথাও জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ আশা প্রকাশ করেন, আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের সুপারিশ পাওয়া যাবে। এরপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ক্যাবিনেটে পাঠানোর আগে সংশোধিত খসড়াটি আবারও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে জনগণের মতামত নেওয়ার কথা জানান তিনি।

সংসদে বিলটি গেলেও তাড়াহুড়ো করে পাস করা হবে না বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের আলোচনার পাশাপাশি সংসদের বাইরেও সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে মতামত নেওয়ার সুযোগ থাকবে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

সরকার এমন একটি আইন করতে চায়, যার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে—বিশেষ করে যুবসমাজকে সাইবার জগতের বিভিন্ন ঝুঁকি থেকে রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, খসড়া সাইবার আইন নিয়ে সাংবাদিক, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গ্রেপ্তার এবং কনটেন্ট অপসারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। সরকারও জানিয়েছে, অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে খসড়ায় পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD