Logo

রাড্ডায় ভাঙচুরের ঘটনায় এমপি মিষ্টির সংশ্লিষ্টতা তদন্তাধীন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯:২১
রাড্ডায় ভাঙচুরের ঘটনায় এমপি মিষ্টির সংশ্লিষ্টতা তদন্তাধীন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তদন্তাধীন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। হামলার সময় দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেছে। তাকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ওখানে নাই, যারা অপরাধী হিসেবে ওখানে গেছে তাদের কারও কারও রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে, কিন্তু সেটা আমরা কখনোই আমলে নেব না। তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

এমপি মিষ্টির প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ওইখানে একজন সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না প্রশ্ন তুলেছেন, সেটা তদন্তাধীন। এ বিষয়ে আমরা কাউকে ছাড় দেবো না, যদি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।’

বিজ্ঞাপন

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙানো হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওই সমিতির সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে। তারা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মিষ্টি হামলার ঘটনায় নিজের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, দুই শতাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনা ভাঙচুর করেন। দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকা ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করে একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবনসহ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। পরে সেখানে সমিতির নাম লেখা দুটি সাইনবোর্ড ও দুটি ব্যানার টাঙানো হয়।

ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে শাহআলী থানায় মামলা করা হয়। মামলায় বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, হাতুড়ি, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল ব্যক্তি প্রাচীর টপকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার ও মো. আব্দুল হাইকে মারধর করে বেঁধে রাখেন। পরে এক্সক্যাভেটর নিয়ে ভেতরে ঢুকে পরিবার-পরিকল্পনা সেবার একটি সেমিপাকা ঘরসহ ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের কক্ষ ভাঙচুর করা হয়।

ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত হয়েছে। এর আগে ডিএমপি কমিশনার জানিয়েছিলেন, ঘটনায় কোনো এমপি বা পুলিশ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD