প্রবীণদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানো এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
১ অক্টোবর ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা’ (The Age of Longevity: Rethinking Systems for Longer Lives)।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। দীর্ঘায়ু যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, তেমনি দীর্ঘ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা এবং পারিবারিক সহায়তার ব্যবস্থাগুলো সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবীণদের স্বার্থরক্ষায় সরকার সচেতন ও সতর্ক। একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার পাশাপাশি প্রবীণ বয়সে নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার কাজ চলছে।
বিজ্ঞাপন
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রবীণদের অবহেলা না করে তাদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রাখা এবং সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রবীণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি উপকারভোগীর সংখ্যাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
প্রবীণদের পরিবার ও সমাজের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রবীণ ব্যক্তিগণ আমাদের পরিবার ও সমাজের ভিত্তি। তাঁদের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ওপর দাঁড়িয়েই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তাই একটি কল্যাণমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য।’
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ‘পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র- তিন স্তরেই তাঁদের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতার চর্চা অব্যাহত রাখা জরুরি। প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরো সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থরক্ষায় সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি মনে করেন, এসব মূল্যবোধ যত বেশি কার্যকর থাকবে, সমাজে প্রবীণদের যত্ন, সম্মান ও মর্যাদাও তত বেশি সুরক্ষিত থাকবে।
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে দেশের সব প্রবীণ নাগরিকের প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা তার সরকারের লক্ষ্য, যেখানে তরুণ ও প্রবীণ প্রত্যেক মানুষ নিজের সর্বোচ্চ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস, ২০২৬-এর সার্বিক সফলতা কামনা করেন।
বিজ্ঞাপন
তথ্য সূত্র: বাসস








