Logo

সরকারি দামেই এলপিজি বিক্রি করতে হবে, বেশি নিলে কঠোর ব্যবস্থা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:৩৬
সরকারি দামেই এলপিজি বিক্রি করতে হবে, বেশি নিলে কঠোর ব্যবস্থা
ছবি: সংগৃহীত

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) খুচরা বাজারে বর্তমানে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরবরাহ সংকটের অজুহাত দেখিয়ে ভোক্তাদের কাছ থেকে প্রতিটি এলপিজি সিলিন্ডারের জন্য ইচ্ছেমতো দাম আদায় করছেন খুচরা বিক্রেতারা। তবে বাজারের প্রকৃত চিত্র বলছে, চাহিদার তুলনায় দেশে এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। ফলে সরবরাহ সংকটের কথা বলে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রির সুযোগ নেই।

বিজ্ঞাপন

এ অবস্থায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে সদস্য কোম্পানি, পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের নির্দেশ দিয়েছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। একই সঙ্গে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে মজুত করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের স্বাক্ষর করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে মিলছে না এলপিজি, ডিসিদেরকে মাঠে নামার নির্দেশ

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি সন্তোষজনক। গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ১ দশমিক ৫৬ লাখ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। এর আগে আগস্ট মাসে আমদানি করা হয়েছিল ১ দশমিক ৫৮ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ, চাহিদার তুলনায় বাজারে এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। তাই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো সুযোগ নেই।

সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয় এবং এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নেতাদের মধ্যে এলপিজির সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দেশের এলপিজি সরবরাহ, বাজার পরিস্থিতি এবং মূল্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কোনো এলপিজি অপারেটর, পরিবেশক, ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করলে এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে মজুত করলে তা প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গত ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি মন্ত্রী এক অনলাইন সভায় জেলা প্রশাসকদের এলপিজির বাজার পরিস্থিতি মনিটর করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। এলওএবির পক্ষ থেকে সব সদস্য কোম্পানি, পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাকে অবিলম্বে বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাধারণ ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষা ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে এলওএবি।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, প্রতি মাসেই সরকারের পক্ষ থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও, সেই দামের চেয়ে বেশিতে ভোক্তাদের কাছে তা বিক্রি আসছেন খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতারা। জানতে চাইলেই তারা বলেন, ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হয় বলে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি করা সম্ভব হয় না তাদের পক্ষে। সম্প্রতি আরও খারাপ হয়েছে পরিস্থিতি।

সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। সর্বশেষ সরকার ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বাজারে সরবরাহ সংকটের কথা বলে খুচরা বিক্রেতাদের অনেকে একই সিলিন্ডার ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করছেন। ফলে সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

এমন পরিস্থিতিতে বাজারে এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করার বিষয়টি নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পথে হাঁটতে যাচ্ছে সরকার।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD