Logo

সরকারের দামে মিলছে না এলপিজি, ডিসিদেরকে মাঠে নামার নির্দেশ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২০:১২
সরকারের দামে মিলছে না এলপিজি, ডিসিদেরকে মাঠে নামার নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত

সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিক্রির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) মাঠপর্যায়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন বৈঠকে এ নির্দেশ দেন তিনি।

বর্তমানে সরকার ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করলেও বিভিন্ন এলাকায় খুচরা পর্যায়ে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে নির্ধারিত দামের তুলনায় ভোক্তাদের অতিরিক্ত ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।

খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, ডিলারদের কাছ থেকেই বেশি দামে এলপিজি কিনতে হওয়ায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এলাকায় এই পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশে এলপিজির সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তবে কোনো কোনো এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করা হতে পারে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও কোথাও সংকটের কথা কেন শোনা যাচ্ছে এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়ার কারণ কী—তা খতিয়ে দেখতে ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি জেলা প্রশাসকদের তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করে প্রতিবেদন পাঠাতে বলেন। এসব প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় এলপিজির সরবরাহ কম পাওয়া যাবে, সেসব স্থানে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা দেন ইকবাল হাসান মাহমুদ।

বিজ্ঞাপন

দেশজুড়ে এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসকদের আরও সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশও দেন তিনি।

এর আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটররা মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে দেশের বাজারে এলপিজির সরবরাহ ও মজুদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন। তারা জানান, বাজারে কোনো সংকট নেই।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আয়োজিত ওই সভায় দেশের এলপিজি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন।

বিজ্ঞাপন

ওই সভায় ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সব ধরনের বাধা দূর করতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD