দেশের প্রথম ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারি ভবনের অব্যবহৃত ছাদ ব্যবহার করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায় স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো থেকে রুফটপ সোলার ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রকল্পকে সরকারি ভবনে স্থাপিত দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, তিন উপজেলায় সরকারি ভবনের ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট বা প্রায় ০.৯৬ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিলোওয়াট, পরশুরামে ২৯৮ দশমিক ৫ কিলোওয়াট এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রথমে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হবে। ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
ফুলগাজী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ ভবন, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো এবং ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ মোট আটটি সরকারি স্থাপনায় সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে। এসব স্থাপনায় সম্মিলিতভাবে ২৪৯ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের প্রতিটিতে প্রায় ২৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ ভবনে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সক্ষমতা প্রায় ১০৩ কিলোওয়াট।
ছাগলনাইয়া উপজেলায় উপজেলা পরিষদ ভবন, পৌরসভা ভবন, ডাকবাংলো এবং ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ছাদসহ মোট ১২টি স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থার সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ৪১৫ কিলোওয়াট।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে পরশুরাম উপজেলায় উপজেলা পরিষদ ভবন, অডিটোরিয়াম, তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলোসহ ছয়টি সরকারি স্থাপনায় সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে। এসব স্থাপনায় মোট ২৯৮ দশমিক ৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে (আরইবি) দেওয়া হলেও এর মোট ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. নুরুল হোসাইন জানিয়েছেন, তিন উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আনুমানিক ৫ থেকে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
এর আগে ফেনী সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুরে পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন করেন। এরপর ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
বিজ্ঞাপন
দিনের পরবর্তী কর্মসূচিতে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়ার কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।








