Logo

কানাডার চোখে বাংলাদেশ কৌশলগত অংশীদার, বললেন হাইকমিশনার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪:২৩
কানাডার চোখে বাংলাদেশ কৌশলগত অংশীদার, বললেন হাইকমিশনার
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশকে শুধু বাণিজ্যের গন্তব্য নয়, বরং একটি উন্নত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে কানাডা। ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এ কথা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর সমাপনী দিনে বক্তব্য দেন তিনি।

অজিত সিং বলেন, পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে প্রথম দিকের স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর একটি হতে পেরে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে সহযোগিতা করতে পেরে কানাডা গর্বিত।

তিনি জানান, চ্যালেঞ্জিং সময়ের মধ্যেও দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৪ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের বেশি হয়েছে। পাশাপাশি কানাডিয়ান পটাশ সার সরবরাহে সরকার-টু-সরকার সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ২০১৪ সাল থেকে এ ব্যবস্থায় বাংলাদেশে ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন টনের বেশি কানাডিয়ান পটাশ সরবরাহ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

কানাডার হাইকমিশনার বলেন, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি, জলবায়ু, প্রযুক্তি, অ্যারোস্পেস, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে সাহায্যনির্ভর সম্পর্কের পরিবর্তে এমন অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বের দিকে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন, যেখানে দুই দেশ পরস্পরের পরিপূরক শক্তিকে কাজে লাগাবে। এতে উভয় দেশের মানুষের জন্য আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরি হতে পারে।

অজিত সিং আরও বলেন, দুই দেশ গণতান্ত্রিক, আর্থিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার, শ্রমিক অধিকার এবং বিচার বিভাগীয় সংস্কারের মতো বিষয়ে কাজ করছে। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের পাশাপাশি কানাডার জন্যও নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করবে। তার মতে, বাংলাদেশ-কানাডা সম্পর্ক এখন আর শুধু দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি যৌথ সমৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির অংশীদারত্বে পরিণত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বে কৌশলগতভাবে মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকা দেশগুলোর ভূমিকা প্রসঙ্গে কানাডার হাইকমিশনার বলেন, এসব দেশকে সার্বভৌমত্ব ও উন্মুক্ততার মধ্যে কোনো একটি বেছে নিতে হবে না। একইভাবে জাতীয় স্বার্থ ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মধ্যেও কোনো একটিকে বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বাস্থ্য, সংকটপূর্ণ খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা সংস্কারের মতো নির্দিষ্ট বিষয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে আলাদা সহযোগিতার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সম্ভব।

অজিত সিং বলেন, এসব নেটওয়ার্কের সদস্যপদ একই হতে হবে এমন নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, সহযোগিতাগুলো বাস্তবসম্মত ও দূরদর্শী হওয়া এবং নাগরিকদের জন্য সুনির্দিষ্ট ফলাফল নিশ্চিত করা।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, শুধু আকার বা সামরিক শক্তির ভিত্তিতে পরিচালিত কোনো বিশ্বব্যবস্থা সাধারণ দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা করতে পারে না। বাংলাদেশ, কানাডা ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য এমন একটি নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রয়োজন, যেখানে সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং দেশগুলো নিজেদের স্বাধীনতা বজায় রেখেই পারস্পরিক সহযোগিতা করতে পারবে। বড় শক্তিগুলোর বাইরে বাংলাদেশ ও কানাডার মতো দেশগুলোরও এ ধরনের ব্যবস্থা বজায় রাখতে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD