Logo

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক: জাহেদ উর রহমান

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪:৫৯
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক: জাহেদ উর রহমান
ছবি: সংগৃহীত

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার আগ্রহী এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের বুঝতে হবে যে আমরা এই পরিকল্পনাটা করতে চাই কিনা। তো আমরা করতে চাই।’ তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরিকল্পনাটি নিয়ে নতুন করে কিছু কাজ করতে হচ্ছে।

পরিকল্পনার আগের কাঠামোর কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে নেওয়া প্রাথমিক পরিকল্পনায় মূলত নদীশাসনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল। বর্ষাকালে তিস্তা এলাকায় ব্যাপক নদীভাঙন হয় এবং কোথাও কোথাও নদীর প্রস্থ ৫ থেকে ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘সেখানকার প্রপোজাল ছিল এটাকে খনন করে, পাড়টাকে শক্ত করে নদী ভাঙন রোধ করা এবং ল্যান্ড রিক্লেইম করা। আমরা যদি এটাকে ১ কিলোমিটারের মধ্যে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে আশেপাশে প্রচুর ভূমি, যেটা বর্ষার সময় ডুবে যায় বা ভেঙে যায়, সেটাও আমরা পেতে পারি।’

বিজ্ঞাপন

তবে নতুন করে তিস্তা মহাপরিকল্পনায় পানি সংরক্ষণের বিষয়টি যুক্ত করা যায় কি না, সেটি যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জাহেদ উর রহমান বলেন, তিস্তা পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারাজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে তা ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজের যে দৃষ্টিভঙ্গি, সেখানে কিন্তু আমরা ওয়াটার রিটেইন করার চেষ্টা করছি। বর্ষার পানি জমিয়ে রাখার চেষ্টা করছি, যাতে শুষ্ক মৌসুমে কিছুটা হলেও ব্যবহার করতে পারি।’

বিজ্ঞাপন

তিস্তার পানির প্রবাহের কারণে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘তিস্তার কাজটা কঠিন, কারণ হচ্ছে তিস্তা অনেক খরস্রোতা, অনেক দ্রুত পানি নেমে যায়। তারপরও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, তারা একটি পরিকল্পনা করতে পারবেন।’

তিনি জানান, নদীভাঙন রোধের পাশাপাশি তিস্তার পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এ প্রচেষ্টা বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক বলেও জানান তিনি।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার অর্থায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রকল্পের অর্থায়ন কোথা থেকে হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। চীন, বাংলাদেশ কিংবা অন্য কোনো দেশের অর্থায়ন হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘ফান্ডিং কীভাবে হবে, সেটা ওপেন অ্যান্ডেড। আমি এটুকু নিশ্চিত করছি, বাংলাদেশ তার স্বার্থের জন্য, স্বার্থের পক্ষে যায় এমন সিদ্ধান্তই নেবে।’

কোন উৎস থেকে অর্থ নিলে বাংলাদেশের জন্য বেশি সুবিধা হবে অথবা নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে কী সুবিধা হবে—এসব বিষয় স্বাধীনভাবে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এটা একটি স্বাধীন সার্বভৌম সরকার, যে সরকার জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।’

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD