Logo

‘এনার্কি’র অবস্থা থেকে বাংলাদেশ বেরিয়ে এসেছে: জাহেদ উর রহমান

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৭
‘এনার্কি’র অবস্থা থেকে বাংলাদেশ বেরিয়ে এসেছে: জাহেদ উর রহমান
ছবি: সংগৃহীত

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও নেতিবাচক ধারণা থাকলেও বাংলাদেশ ‘এনার্কি’ বা নৈরাজ্যের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছু ক্ষেত্রে অবনতি ঘটেছে, আবার কিছু অপরাধের প্রবণতা কমেছে। তবে কোথাও দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের ভূমিকা ও সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। নাগরিকদের সরকারের কাছে নিজেদের প্রত্যাশা জানানো এবং অভিযোগ করার অধিকার রয়েছে। ৫ আগস্টের পর যে পরিস্থিতির মধ্যে পুলিশ বাহিনীকে বর্তমান সরকার পেয়েছে, সেটি বিবেচনায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

তার ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজ করছে এবং তাদের কার্যক্রমে ইতিবাচক অগ্রগতি রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটছে না—সরকার এমন দাবি করছে না বলেও স্পষ্ট করেন জাহেদ উর রহমান। কোথাও দায়িত্বে অবহেলার ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তদন্ত করে আরও কেউ দায়ী কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তুলনা করতে গিয়ে তিনি ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ওই সময় ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত বা বিধ্বস্ত’ পুলিশ বাহিনীর পরিস্থিতি থেকে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়। এরপর বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। কোনো কোনো অপরাধের পরিসংখ্যান বেড়েছে, আবার কিছু অপরাধ কমেছে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশে অন্তত এখন একটা এনার্কি না, একটা নৈরাজ্য না। এটা একটা বড় উন্নয়ন বলে মনে করি।

বিজ্ঞাপন

অতীতের বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দুটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকায় আগুন দেওয়ার ঘোষণা ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রচার করা হলেও তখন একটি নিষ্ক্রিয় বাহিনী তা ঠেকানোর চেষ্টা করেনি। মাজার ভাঙা, মেয়েদের ফুটবল খেলা বন্ধের ঘোষণা, নাটক ও মেলা বন্ধের মতো ঘটনাগুলোকেও তিনি ওই সময়ের ধারাবাহিক পরিস্থিতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।

বর্তমানে দুই-তিনটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও সেগুলোকে আগের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। মেয়েদের ফুটবল খেলা বন্ধের ঘোষণার বিপরীতে বর্তমানে মেয়েদের ফুটবল খেলা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ‘পারসেপশন’ তৈরি হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পারসেপশন গুরুত্বপূর্ণ। তবে ছয় মাসের সঙ্গে আগের ছয় মাসের তথ্য তুলনা করলে দেখা যায়, কিছু অপরাধ কমেছে এবং কিছু অপরাধ বেড়েছে। ফলে তুলনামূলকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘খুব খারাপ’ হয়েছে বলে মনে করেন না তিনি।

বিজ্ঞাপন

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনীর অভিযান প্রয়োজন হবে কি না—এমন প্রশ্নে জাহেদ উর রহমান বলেন, পুলিশ তাদের কার্যক্রম আরও জোরদার করছে। প্রয়োজন হলে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে সরকার যেকোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নেবে। তবে সেই সিদ্ধান্ত আইনগত সীমার মধ্যেই নেওয়া হবে।

সালমান মুক্তাদিরের গাড়ি ও স্থাপনায় হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য এবং পরবর্তী সময়ে তা সংশোধনের বিষয়েও প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন ওঠে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, সালমান মুক্তাদির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরকার তার প্রতি সহানুভূতিশীল। তবে তিনি যে তথ্য দিয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে সেটি সংশোধন করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, সালমান মুক্তাদিরের বক্তব্যের পর বিরোধীদলের একজন নেতাও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন এবং সরকার ও একটি রাজনৈতিক দলকে দায়ী করেন। পরে সালমান মুক্তাদির নিজেই জানান, ঘটনাটি চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো ধরনের সহিংসতার পক্ষে সরকার নয়। ঘটনা ঠেকানো উচিত ছিল এবং এখন সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।

অপতথ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে একটি বড় সংকট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাদের বিপুল মানুষের কাছে পৌঁছানোর সক্ষমতা রয়েছে, তাদের আরও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে কাজ চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আইনি পরিসরের মধ্যে অপতথ্য মোকাবিলায় কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে বলে সরকার আশা করছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সফর করেছেন—ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমের এমন প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই।

তিনি বলেন, অজিত ডোভাল বাংলাদেশ সফরে এলে সরকার অবশ্যই বিষয়টি জানত এবং সেটি আনুষ্ঠানিকভাবেই হওয়ার কথা। ভারতসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সংবাদমাধ্যমে নানা ধরনের ‘স্পেকুলেটিভ নিউজ’ ও গসিপ প্রকাশিত হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রানফ্লাট ও সালমান মুক্তাদিরের ঘটনায় বিএনপির নাম আসার বিষয়ে সরকার বিব্রত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন হলে বা কারও স্থাপনায় হামলা হলে সরকার অবশ্যই বিব্রত। কেউ অপরাধী হলেও তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, এসব ঘটনায় ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তদন্তে পুলিশের অবহেলা কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, তদন্তে যদি কারও নাম বা সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারের দায়িত্ব অপরাধ প্রতিরোধের চেষ্টা করা এবং অপরাধ সংঘটিত হলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর তদন্ত চলবে। সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD