Logo

স্মার্ট ঢাকা নয়, আগে বসবাসের উপযোগী ঢাকা চাই: রাজউক চেয়ারম্যান

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১৯:১৬
স্মার্ট ঢাকা নয়, আগে বসবাসের উপযোগী ঢাকা চাই: রাজউক চেয়ারম্যান
ছবি: সংগৃহীত

উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট নগর গড়ার আগে ঢাকাকে মানুষের বসবাসের উপযোগী করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, শুধু স্মার্ট সিটির নামে প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো তৈরি করলেই হবে না। নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন সহজ, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার সক্ষমতাই নগর উন্নয়নের প্রধান মানদণ্ড হওয়া উচিত। ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করে একটি বাসযোগ্য শহর গড়ে তোলাই স্মার্ট নগরের মূল লক্ষ্য হওয়া দরকার।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে আয়োজিত ‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ ২০২৬’-এ সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্মার্ট সিটি ধারণার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘স্মার্ট’ শব্দটির উপযুক্ত বাংলা খুঁজতে গিয়ে তিনি ‘চৌকস’ শব্দটি পেয়েছেন। তবে নগর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে শব্দটির চেয়ে মানুষের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করাকেই তিনি বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, আমরা এমন একটি বাসযোগ্য ঢাকা তৈরি করতে চাই, যেখানে অন্তত ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিয়ে মানুষ বসবাস করতে পারে। একটি শহরকে বাসযোগ্য করতে শুধু ভবন নির্মাণ বা সড়ক উন্নয়ন যথেষ্ট নয়। আবাসন, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, পয়োনিষ্কাশন ও গণপরিবহনসহ নাগরিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সেবাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।

ঢাকার পরিকল্পনায় দেশের নিজস্ব বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইউরোপ, আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ার মডেল সরাসরি বাংলাদেশে প্রয়োগ করা যাবে না। এসব দেশে পর্যাপ্ত জমি, ভিন্ন জনসংখ্যা কাঠামো ও নাগরিক সুবিধা রয়েছে। বাংলাদেশের সীমিত জমি, বিপুল জনসংখ্যা ও বিদ্যমান অবকাঠামো বিবেচনায় নিয়েই নগর পরিকল্পনা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকার জনসংখ্যা, আবাসন ও যোগাযোগের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, পয়োনিষ্কাশন এবং গণপরিবহনও নগর পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু এসব বিষয় বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকায় সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা কঠিন।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীতে প্রতিদিন মানুষের চাপ বাড়ছে উল্লেখ করে প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, মানুষের ঢাকামুখী প্রবাহের সঙ্গে নতুন নতুন বস্তিও গড়ে উঠছে। তাই শুধু আইন প্রয়োগ করে এসব সমস্যা মোকাবিলা করা যাবে না; নগর ব্যবস্থাপনায় বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে।

কনক্লেভে প্রধান অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তিনটি সেশনে অনুষ্ঠিত কনক্লেভে আবাসন, নির্মাণ, জ্বালানি, সবুজ নগরায়ণ ও অর্থায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

‘জ্বালানি রূপান্তর: এলপিজি ও সোলার’ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী। ‘নির্মাণে দেশীয় সক্ষমতা’ সেশনে অংশ নেন বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) সভাপতি এবং ক্রাউন সিমেন্ট ও জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং গ্লাস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (জিএমইএবি) সভাপতি ও নাসির সিনট্যাক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম বিশ্বাস।

বিজ্ঞাপন

‘স্মার্ট-সবুজ আবাসন ও অর্থায়ন’ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন স্পেসজিরো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ, ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিমুল বাতেন এবং এবিসি রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রাবণী দত্ত।

এ ছাড়া ‘প্রাথমিক আলোচনা ও বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি: আবাসন, নির্মাণ ও টেকসই নগরায়ণ’ বিষয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক আহমেদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান।

অনুষ্ঠানে দেশের আবাসন, নির্মাণ, জ্বালানি ও নগর পরিকল্পনা খাতের নীতিনির্ধারক, পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী, বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD