Logo

মোহাম্মদপুরে ভবনের একাংশ ধস, বাসিন্দাদের আতঙ্কেও নিশ্চুপ রাজউক

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩০
মোহাম্মদপুরে ভবনের একাংশ ধস, বাসিন্দাদের আতঙ্কেও নিশ্চুপ রাজউক
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আজিজ মহল্লায় একটি পুরোনো তিনতলা ভবনের একাংশ ধসে পড়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে হঠাৎ বিকট শব্দে ভবনের একটি অংশ ভেঙে পড়ে এবং ভবনটি একদিকে হেলে যায়। এতে ভবনের ভেতরে থাকা একাধিক পরিবার দ্রুত ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়। যদিও এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি, তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা—যেকোনো সময় পুরো ভবনটি ধসে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালবেলায় হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। প্রথমে অনেকেই বিষয়টিকে ভূমিকম্প মনে করেছিলেন। পরে দেখা যায়, আজিজ মহল্লার পুরোনো তিনতলা ভবনটির একটি অংশ ভেঙে পড়েছে এবং ভবনের মূল কাঠামো একদিকে হেলে রয়েছে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ভবনের প্রায় ১২টি পরিবারের সদস্যরা শিশু, নারী ও বয়স্কদের নিয়ে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন।

দুর্ঘটনার পর ভবনটির আশপাশে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। স্থানীয়রা জানান, ভবনের দেয়াল ও কাঠামো দীর্ঘদিন ধরেই দুর্বল হয়ে পড়েছিল। বিভিন্ন স্থানে ফাটল, পলেস্তারা খসে পড়া এবং জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে সহজেই বোঝা যেত।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বাসিন্দাদের অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির মালিককে ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন। প্রয়োজনীয় মেরামত কিংবা কারিগরি পরীক্ষা করার অনুরোধও জানিয়েছিলেন। কিন্তু এসব বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে দীর্ঘদিনের অবহেলার পরিণতিতেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের দাবি।

বিজ্ঞাপন

ভবনের এক বাসিন্দা জানান, বিকট শব্দ শোনার পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসেন। তাঁর ভাষ্য, মুহূর্তের মধ্যে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং প্রাণ বাঁচাতে যে যেভাবে পেরেছেন বাইরে চলে আসেন। তাঁর আশঙ্কা, ভবনের বাকি অংশও যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। তাই দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) কিংবা সিটি করপোরেশনের কোনো প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবনের অবস্থা পরিদর্শন করেননি। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও কেন সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলো না।

এলাকার আরেক বাসিন্দা বলেন, ভবনটির বয়স প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বছর। এত পুরোনো ও জরাজীর্ণ একটি ভবনের ঝুঁকির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অজানা থাকার কথা নয়। কিন্তু সময়মতো কোনো নজরদারি বা ব্যবস্থা না নেওয়ায় এখন পুরো এলাকাবাসী আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের আশঙ্কা, ভবনটি সম্পূর্ণ ধসে পড়লে পাশের ভবনগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলের দিকে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও ভবনটি ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার বা ভবনটি সম্পূর্ণ খালি করার মতো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে বাসিন্দাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা, সিলগালা বা সম্পূর্ণ খালি করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে ভবনের আশপাশে বসবাসকারী মানুষও নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত রয়েছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে রাজউক, সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ভবনটির কারিগরি পরীক্ষা ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করা উচিত। যদি ভবনটি বসবাসের অনুপযোগী হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে সেখানে বসবাসরত পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রাজধানীতে বহু পুরোনো ভবন নিয়মিত পরিদর্শন ও ঝুঁকি মূল্যায়নের আওতায় না থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই শুধু এই ভবন নয়, একই ধরনের জরাজীর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সংস্কার বা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD