সমৃদ্ধ জাতি গঠনে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা জরুরি

সুস্থ, কর্মক্ষম ও দীর্ঘমেয়াদে রোগমুক্ত জীবন নিশ্চিত করতে সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরে রাজধানীতে স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিষয়ক একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার রাজধানীর রমনায় দ্য ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের সদর দপ্তরের সেমিনার কক্ষে এই আয়োজন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
আইইবির সভাপতি ও রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম রিজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘আজীবন সুস্বাস্থ্যের বিজ্ঞান: পুষ্টি ও জীবনধারা’। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক প্রকৌশলী অংশ নেন।
টেকসই উন্নয়নের জন্য সুস্থ প্রকৌশলী প্রয়োজন
এতে সভাপতির বক্তব্যে রাজউক চেয়ারম্যান ও আইইবি সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম স্বাস্থ্য সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দেশের প্রকৌশলী সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষকে কর্মব্যস্ততার মধ্যেও একটি সুশৃঙ্খল ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
বিজ্ঞাপন
ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়নে প্রকৌশলীদের যেমন শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকা জরুরি, ঠিক তেমনি একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে রোগ প্রতিরোধমূলক জীবনযাত্রা ও সঠিক পুষ্টির কোনো বিকল্প নেই। এ ধরনের সময়োপযোগী ও জনসচেতনতামূলক বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করায় তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
অসংক্রামক ব্যাধি বৃদ্ধির কারণ ও প্রতিকার
সেমিনারের প্রধান আলোচক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির সমন্বিত চিকিৎসাবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসা গবেষক প্রফেসর ড. মজিবুল হক।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, স্ট্রোক, ফ্যাটি লিভার ও কিডনি রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। তবে আশার বিষয় হলো, এসব রোগের বড় একটি অংশের পেছনে রয়েছে এমন কিছু কারণ, যা মানুষের নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই আছে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনই আজকের অধিকাংশ দীর্ঘস্থায়ী রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।
ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যসেবা হবে প্রতিরোধমূলক
তিনি বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও বিশ্বজুড়ে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, স্ট্রোক, ফ্যাটি লিভার এবং কিডনি রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক ব্যাধির হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। তবে এসব রোগের বড় অংশই মানুষের জীবনধারার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং সচেতনতার মাধ্যমে অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
বিজ্ঞাপন
তার মতে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনই অধিকাংশ দীর্ঘস্থায়ী রোগের প্রধান কারণ।
প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর জোর
প্রফেসর ড. মজিবুল হক বলেন, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এখন শুধু রোগের চিকিৎসায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং রোগের মূল কারণ শনাক্ত করে প্রতিরোধের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা, বৈজ্ঞানিক পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারার সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি খাদ্য নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে প্রাকৃতিক ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বাস্থ্য পরিকল্পনা অনুসরণের পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, চিকিৎসার পাশাপাশি জীবনধারাভিত্তিক প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাই ভবিষ্যতে সবচেয়ে কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন প্রকৌশলী ও চিকিৎসকরা
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইইবির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. সাব্বির মোস্তফা খান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আইইবির সহসভাপতি (সেবা ও কল্যাণ) ইঞ্জিনিয়ার নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইইবির অনারারি সহকারী সাধারণ সম্পাদক (সেবা ও কল্যাণ) ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির আহমেদ ওসমানী।
বিজ্ঞাপন
সেমিনারের শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রকৌশলী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীরা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। প্রধান আলোচক তাদের প্রশ্নের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও বাস্তবভিত্তিক পরামর্শ দেন।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াবে এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব সমাজের বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।








