সৃজনশীল অর্থনীতি বিকাশে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

শিশুদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি দেশে সৃজনশীল অর্থনীতির পরিধি বাড়াতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে প্রতিষ্ঠানটির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, শিশু একাডেমি দেশের শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শিশুদের কীভাবে মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হিসেবে গড়ে তোলা যায়, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে তার প্রতিফলন রয়েছে।
শিশুদের মানবিক গুণাবলি বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমির খসরু বলেন, ছোটবেলা থেকেই পরিবার, প্রকৃতি, পরিবেশ, পশুপাখি ও কীটপতঙ্গের প্রতি শিশুদের দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল করে তুলতে হবে। জলবায়ু, পরিবেশ ও প্রাণিসম্পদ রক্ষার বিষয়েও উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী-পুরুষের সমঅধিকারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, পরিবার থেকেই সমতার চর্চা শুরু করা প্রয়োজন। ছেলে ও মেয়েকে শিক্ষা এবং সম্পদের অধিকারসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমান সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্যে শিশুদের সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, শিল্প, সংগীত ও সংস্কৃতিচর্চায়ও তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশজুড়ে আয়োজিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার শিশু অংশ নিয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪৫ হাজারের বেশি মেয়ে রয়েছে।
আমির খসরু বলেন, একটি দেশের শক্তি শুধু অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না; সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল সক্ষমতাও দেশের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তাই শিশুদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
সৃজনশীল অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। থিয়েটার, শিল্প ও চলচ্চিত্রের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তাঁতি, কামার, কুমারসহ ঐতিহ্যবাহী কারিগরদেরও জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ জন্য এসব পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার কথা জানান তিনি। এর মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
বিশ্ব অর্থনীতির নানা অনিশ্চয়তা ও প্রতিকূলতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও ধৈর্যের মাধ্যমে একটি উন্নত ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এমন বাংলাদেশ নির্মাণ করতে হবে, যেখানে শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকবে।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোছা. আরজু আরা বেগম।
অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অর্থমন্ত্রী।








