আসন্ন আইসিএও অডিট, বিমানবন্দর নিরাপত্তায় বাড়ছে সমন্বয়

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর, সমন্বিত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার লক্ষ্যে জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএএসসি) ১৪তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) অডিট সামনে রেখে বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গত বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরের চেয়ারম্যান সচিবালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সভায় সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল।
সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বেবিচক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাংলাদেশ পুলিশ এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে নীতি নির্ধারণ, নিরাপত্তা কার্যক্রম এবং পারস্পরিক সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে এনসিএএসসি। বিমানবন্দর ও বেসামরিক বিমান চলাচলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদার করাই এ কমিটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
বিজ্ঞাপন
সভায় শুরুতেই এনসিএএসসির ১৩তম সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে নিরাপত্তা তল্লাশি জোরদার, যানবাহনের নিচের অংশ স্ক্যান করার ব্যবস্থা কার্যকর রাখা, গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ মর্যাদার যাত্রীদের লাউঞ্জে নিরাপত্তা তল্লাশি, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক এবং বিমানবন্দরের যাত্রীসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এলাকার নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে উৎপত্তি হওয়া কার্গো ও ডাকের উচ্চঝুঁকির পণ্য ও ডাক হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস, বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন প্রতিরোধে নেওয়া ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে যাত্রী অনুপস্থিত অবস্থায় খোলা লাগেজে নিরাপত্তা স্টিকার দেওয়ার বিষয়েও অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
বিমানবন্দরগুলোতে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার আওতায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্য মোতায়েন এবং মিশন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিশেষ মর্যাদার যাত্রী হিসেবে বিবেচনার বিষয়ও সভায় আলোচনায় আসে।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে ১৪তম এনসিএএসসির বিভিন্ন এজেন্ডা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ মর্যাদার যাত্রীদের অভিবাসন কার্যক্রমে যথাযথ প্রটোকল নিশ্চিত করা এবং অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকানোর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্ট অভিবাসন এলাকায় দাপ্তরিক প্রটোকল ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি নিয়মবহির্ভূত ব্যক্তিদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় বিমানবন্দর নিরাপত্তায় একীভূত কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আইসিএওর নিরাপত্তা মানদণ্ড, দেশের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান এবং জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির আলোকে নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা ও অংশীজনের দায়িত্বের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
আসন্ন আইসিএও অডিটের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিমানবন্দর পর্যায়ে নিরাপত্তা কার্যক্রমে বেবিচকের অধীনে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্ব ও কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা সভায় উঠে আসে।
বিজ্ঞাপন
বিমানবন্দরের যাত্রীসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এলাকার নিরাপত্তায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য মানসম্মত পরিচালন পদ্ধতি প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। আইসিএওর নির্ধারিত অডিট প্রশ্নমালার সংশ্লিষ্ট ধারার আলোকে এসব সংস্থার নিরাপত্তা কার্যক্রমের মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরিচালন পদ্ধতি প্রণয়ন এবং বেবিচকের অনুমোদন নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া কক্সবাজার বিমানবন্দরের সম্প্রসারিত রানওয়ের সমুদ্রবক্ষে স্থাপিত দ্বিতীয় শ্রেণির নির্ভুল অবতরণ সহায়ক আলোকব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত ও কার্যকর করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার নিরাপত্তা মান ও নির্দেশনা অনুসারে দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা এবং আসন্ন অডিটের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।








