Logo

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল হলো পরমাণু বিক্রিয়া

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:০৩
দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল হলো পরমাণু বিক্রিয়া
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে প্রথমবারের মতো সফলভাবে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া বা ক্রিটিক্যালিটি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ এই অগ্রগতিকে ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন এ সাফল্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বায়রার চেয়ারম্যান এম মাহমুদুল হাসান বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম মইনুল হোসেন এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসানের কাছে ফিজিক্স টেস্ট শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স হস্তান্তর করেন।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এ অনুমোদনের ফলে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে রিঅ্যাক্টরের ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়া শুরুর ক্ষেত্রে বড় কোনো বাধা থাকছে না। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক চেইন বিক্রিয়া শুরু করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

ইতোমধ্যে প্রথম ইউনিটের প্রেসারাইজার অপারেটেড রিলিফ ভালভ (পিওআরভি/পিওএসভি) ব্যবস্থার সব পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছে কেন্দ্রটি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ১৬ দশমিক ১ এমপিএ চাপ ও ২৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পিওআরভি/পিওএসভি ব্যবস্থার ১২টি পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৮ দশমিক ৬৫ এমপিএ চাপে পরীক্ষা চালানোর সময় প্রাথমিকভাবে কিছু সমস্যা দেখা দিলেও পরে তা সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

এনপিসিবিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে জানান, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখন শুরু হবে ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ পর্যায়ের কার্যক্রম। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরকে তার নির্ধারিত তাপীয় ক্ষমতার এক শতাংশেরও কম শক্তিস্তরে পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে রিঅ্যাক্টরের গুরুত্বপূর্ণ পরামিতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জামের কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রূপপুর প্রকল্পের পরবর্তী বড় মাইলফলক হলো ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি। এ ধাপসহ পুরো ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো হবে।

ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপের পর কেন্দ্রটি ‘পাওয়ার স্টার্ট-আপ’ পর্যায়ে প্রবেশ করবে। এ পর্যায়ে ধীরে ধীরে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি টারবাইনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এরপর জেনারেটরকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পরিচালনাকারী সংস্থাকে বায়রার কাছ থেকে ট্রায়াল অপারেশনাল লাইসেন্স নিতে হবে।

পুরো প্রক্রিয়ায় রিঅ্যাক্টর, টারবাইন ও নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বায়রা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডসংশ্লিষ্ট সংস্থা, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সামরিক বাহিনী এবং পারমাণবিক জরুরি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রথম ইউনিটকে প্রাথমিকভাবে কম শক্তিতে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করে ধাপে ধাপে উৎপাদনক্ষমতা ২০ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। গ্রিডে সংযুক্ত হওয়ার পর পরীক্ষামূলক উৎপাদন কার্যক্রম সাত থেকে আট মাস পর্যন্ত চলতে পারে।

বাণিজ্যিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হবে। এর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের মূল মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, মেয়াদ বাড়ানোর কারণে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর সুযোগ না থাকলেও ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD